‘বাংলায় আবার SIR হলে বাদ যাবে আরও ৩০ লক্ষ নাম!’ শমীকের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি থেকে রাজ্য রাজনীতি

বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে উত্তাল দেশের রাজধানী দিল্লি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। তবে বিরোধীদের এই দাবিকে আমল দিতে নারাজ ভারতীয় জনতা পার্টি। নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারের পাশেই শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে পদ্ম শিবির।

এই চরম উত্তেজনার আবহেই এবার বিতর্ক বাড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শমীক দাবি করেন— পশ্চিমবঙ্গে যদি পুনরায় সঠিকভাবে এসআইআর করা যায়, তবে ভোটার তালিকা থেকে আরও অন্তত ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়বে!

শমীকের বিস্ফোরক দাবি ও বিএলএ২-দের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলায় ফের এসআইআর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শমীক স্পষ্ট জানান, “পশ্চিমবঙ্গে যদি সঠিকভাবে এসআইআর করা যেত, তাহলে আরও ৩০ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ত। কারণ তৎকালীন তৃণমূল সরকার অফিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে কারচুপি করেছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, গত এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বিজেপির বিএলএ-২ (BLA 2) কর্মীদের উপর মারাত্মক অত্যাচার চালানো হয়েছিল, যার ফলে সঠিক তথ্য সামনে আসতে দেওয়া হয়নি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ ও পাল্টাজবাব

প্রসঙ্গত, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত এসআইআর-এ ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে এবং লক্ষাধিক নাম এখনও বিচারাধীন। এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, “এসআইআর-এর নামে চক্রান্ত করে যোগ্য তৃণমূল সমর্থক ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়েছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই অভিযোগের পাল্টা দিতে গিয়েই শমীক তুলে ধরেন যে, বাংলায় যেভাবে এসআইআর করা হয়েছে তা একেবারেই সঠিক পদ্ধতি ছিল না। তাই স্বচ্ছতা ফেরাতে বাংলায় আরও একবার নিখুঁতভাবে এই প্রক্রিয়া চালানো উচিত।

রাজনীতিতে নতুন জল্পনা

রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিধানসভা ভোটের পর বাংলায় ফের নতুন করে এসআইআর-এর বিজ্ঞপ্তি আসতে চলেছে? যদিও নির্বাচন কমিশন বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়া হয়নি। তবে দিল্লির মঞ্চ থেকে শমীক ভট্টাচার্যের এই বার্তায় রাজ্য রাজনীতিতে যে নতুন করে পারদ চড়ল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *