“ঠাকুরজি বাঁকা হয়ে তাকাচ্ছেন, বাঁশি বাজাচ্ছেন!” ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রামের ভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য করতেই ফুঁসে উঠলেন সাধুসন্তরা

দুর্গাপুজোর সময় আমিষভোজী বাঙালিদের ‘পখণ্ডী’ বা ভেকধারী বলে তীব্র বিতর্ক তৈরি করার রেশ এখনও মেলায়নি। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক নতুন এবং মারাত্মক বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী (Dhirendranath Shastri)। এবার হিন্দু ধর্মের আরাধ্য দেবতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রামের রূপ, শারীরিক অঙ্গভঙ্গি এবং বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও তীর্যক মন্তব্য করে সাধুসন্ত থেকে শুরু করে সাধারণ পুণ্যার্থীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন এই প্রবচক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইতিমধ্যেই নিজের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন তিনি।
ঠিক কী বলেছেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী? সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার করেরায় রামকথা পাঠের একটি আসরে যোগ দিয়েছিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। সেখানেই রাম ও কৃষ্ণের শারীরিক ভঙ্গিমার তুলনা টানতে গিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করে বসেন যা নিয়ে মুহূর্তে শোরগোল পড়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে (যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম) তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনাদের ঠাকুরজি (শ্রীকৃষ্ণ) প্রতিটি ছবিতেই যেন এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন। তাঁর দাঁড়ানোর ভঙ্গিতেও তিনটি জায়গা বাঁকা— পা একটির ওপর অন্যটি রাখা, কোমর বাঁকা এবং ঘাড় বাঁকিয়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন।”
হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবতাদের দৈহিক ভঙ্গি নিয়ে এমন আলগোছে ও অবমাননাকর মন্তব্য করায় মুহূর্তে ফুঁসে ওঠেন ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং বিভিন্ন আখড়ার সাধুসন্তরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
ক্ষমা চেয়েও থামছে না সমালোচনার ঝড়: বিতর্ক যখন দাবানলের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং সাধুসন্তদের কাছ থেকে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন বাগেশ্বর বাবা। নিজের মন্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি। তবে এর আগেও বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কটাক্ষ করে বাংলার সেন্টিমেন্টে আঘাত হানার পর যেভাবে তিনি একের পর এক হিন্দু দেব-দেবী বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন, তাতে তাঁর উদ্দেশ্য ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খোদ সনাতনী মহলেই তৈরি হয়েছে।