“যাঁরা বেঁচেই নেই, তাঁরা ভোট দেবেন কী করে?” ১৩ কোটি ভোটারের নাম কাটা নিয়ে রাহুল গান্ধীকে মেগা চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের!

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন চরম রাজনৈতিক দড়িটানাটানি চলছে। নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের দিল্লিতে ‘মক পার্লামেন্টে’ ডেকে এনে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেস। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, কীভাবে একলাফে ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো? আর এই ইস্যুতেই এবার রাহুল গান্ধীকে খণ্ডন করে ১৩ কোটি ভোটারের চুলচেরা হিসেব জনসমক্ষে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।
“যাঁরা বেঁচেই নেই, তাঁরা ভোট দেবেন কী করে?” — অমিত শাহ: সোমবার হায়দরাবাদের এক মেগা জনসভা থেকে রাহুল গান্ধীর সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “রাহুল গান্ধী দাবি করছেন ১৩ কোটি ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলছেন। এই ১৩ কোটির আসল পরিসংখ্যানটা কী? ৬ কোটির বেশি ভোটার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত (Shifted) হয়ে গিয়েছেন। প্রায় ৩ কোটি ভোটার মৃত। যাঁরা আজ বেঁচেই নেই, তাঁরা ভোট দেবেন কীভাবে? আর সবচেয়ে বড় কথা, প্রায় ৩ কোটি অনুপ্রবেশকারীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
এর সঙ্গেই রাহুল গান্ধীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দেন, কংগ্রেস যতই হইচই করুক না কেন, দেশের মাটি থেকে ওই ৩ কোটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে হঠানো হবেই।
কলকাতার মঞ্চ থেকে নীতিন নবীনের তোপ: একই দিনে কলকাতার রাজপথের সভা থেকেও একই সুরে রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তিনি বলেন, “১৩ কোটির মধ্যে ৬ কোটি নাম স্থানান্তরিত, ৩ কোটি মৃত এবং ৩ কোটি অনুপ্রবেশকারী। রাহুল গান্ধীকে প্রশ্ন করতে চাই—আপনারা কি এই মৃত ও ভুয়া ভোটারদের ভরসাতেই এতদিন নির্বাচনে লড়তে চেয়েছিলেন? দেশের মানুষ আপনাদের সেই অসৎ উদ্দেশ্য সফল হতে দেবে না।”
নীতিন নবীন আরও বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক শক্তি ১৪০ কোটি মানুষের বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করা হলে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র তার উপযুক্ত জবাব দেবে। কটাক্ষের সুরে তিনি দাবি করেন, যে গতিতে কংগ্রেস চলছে, তাতে দলটিকে চিরতরে শেষ করতে রাহুল গান্ধী একাই একশো!
ভোটার তালিকা সংশোধন ও অনুপ্রবেশকারী হটানোকে কেন্দ্র করে শাহ ও নবীনের এই জোড়া আক্রমণ জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।