“২৫ বছরে ওড়িশায় মুখ দেখা যায়নি, আর স্বপ্নে ২৭২ আসন?” রাহুলকে ধুয়ে দিয়ে বিজেপি সাংসদের বিস্ফোরক প্রশ্ন!

ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং বর্তমান রাজনীতি নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর লাগাতার মন্তব্য ও বয়ানের পালটা কড়া জবাবে ধুয়ে দিল বিজেপি। সোমবার কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল ও রাহুল গান্ধীর নানা অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, দেশের স্বনামধন্য নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে ক্রমাগত মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন রাহুল গান্ধী এবং এই মুহূর্তে কংগ্রেস দলটিই ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য “সবচেয়ে বড় হুমকি ও চ্যালেঞ্জ” হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুধাংশু ত্রিবেদী আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান আত্মমর্যাদা কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না বিরোধী শিবির।
“পঁচিশ বছর ওড়িশায় নেই, বিহার-ইউপি-গুজরাটেও নো-এন্ট্রি!” পরিসংখ্যানের ধাক্কায় ব্যাকফুটে কংগ্রেস?
সংবাদ সম্মেলনে তোপ দেগে বিজেপির শীর্ষ মুখপাত্র সরাসরি রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
“রাহুল গান্ধী একটি ভুয়ো ন্যারেটিভ বা মিথ্যা গল্প তৈরি করার চেষ্টা করছেন যে দেশে নাকি প্রবল ‘সরকার-বিরোধী’ হাওয়া চলছে। কিন্তু বাস্তব ও প্রকৃত পরিসংখ্যান কী বলছে? আমি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই— গত ২৫ বছরে ওড়িশায় কংগ্রেসের একজনও মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি। ১৯৯৫ সাল থেকে অর্থাৎ প্রায় তিন দশক ধরে আপনি গুজরাটের ক্ষমতার বাইরে। আর ১৯৯০ সাল থেকে উত্তর প্রদেশ ও বিহারে আপনাদের কোনো অস্তিত্বই নেই! এই চারটি রাজ্য মিলিয়েই তো ১২০টি লোকসভা আসন রয়েছে। তাহলে আপনি কীভাবে ক্ষমতায় আসার কাল্পনিক স্বপ্ন দেখছেন?”
তিনি আরও যোগ করেন, রাহুল গান্ধী রাজনীতিতে আসার বহু আগে থেকেই যে সমস্ত রাজ্যে মোট ২৩০টি লোকসভা আসন রয়েছে, সেখানে কংগ্রেস ১০টি আসন জেতার মতো ক্ষমতাও রাখত না। ফলে বাকি আসনগুলির সমীকরণ মিলিয়ে ২৭২টির জাদুকরী সংখ্যা স্পর্শ করার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবাস্তব।
“কংগ্রেস বুথ এজেন্টরা কি ঘুমচ্ছিলেন না কি অন্য নেশায় ছিলেন?” ভোটার তালিকা বিতর্কে বড় প্রশ্ন
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা যোগ করার প্রক্রিয়া তদারকিতে কংগ্রেস বুথ-স্তরের এজেন্টদের (BLA) ভূমিকা নিয়ে নজিরবিহীন প্রশ্ন তোলেন সুধাংশু ত্রিবেদী।
উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও বাদ দেওয়ার কাজটি সম্পাদন করেন নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত সরকারি কর্মচারী বা বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। অন্যদিকে, সমস্ত রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) পাঠায় যাতে কারচুপি না হয়।
সারাদেশে যেখানে নির্বাচন কমিশনের ১২ লক্ষ বিএলও (BLO) এবং বিভিন্ন দলের ২২ লক্ষ বিএলএ (BLA) মোতায়েন রয়েছে, সেখানে কংগ্রেসের কারচুপির অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে ত্রিবেদী কটাক্ষ করে বলেন:
“ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বিশালাকার প্রক্রিয়ার সময় কংগ্রেসের নিজস্ব বুথ লেভেল এজেন্টরা (BLA) কোথায় ছিলেন? তাঁরা কি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন নাকি কোনো নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন ছিলেন?”
সব মিলিয়ে, ওড়িশা, বিহার, উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটের অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস ও পরিসংখ্যান টেনে রাহুল গান্ধীর নির্বাচনী আক্রমণকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে কড়া পাল্টা চালে জাতীয় রাজনীতি গরম করে দিল শাসকদল বিজেপি।