হোটেলের চেম্বার যেন মৃত্যুফাঁদ! আবর্জনা পরিষ্কার করতে নেমেই মর্মান্তিক পরিণতি ৪ কর্মীর!

হোটেলের ভূগর্ভস্থ বর্জ্য চেম্বার পরিষ্কার করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহর। চেম্বারের ভেতর জমে থাকা অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে করুণ মৃত্যু হলো চারজন কর্মীর। একই সাথে তাঁদের উদ্ধার করতে নেমে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দুই কর্মী।

শনিবার রাত ১১টা নাগাদ উজ্জয়িনী-দেওয়াস রোডে অবস্থিত ‘শ্রী গঙ্গা হোটেল’-এ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, হোটেলের বর্জ্য নিষ্কাশন চেম্বার পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে চারজন কর্মী নিচে নেমেছিলেন। কিন্তু নামার কিছুক্ষণ পরেই বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাঁরা চেম্বারের ভেতরে আটকে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই দমবন্ধ হয়ে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়েন।

সাথীদের বাঁচাত তড়িঘড়ি আরও দুইজন কর্মী নিচে নামেন, কিন্তু বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় তাঁরাও বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছ’জনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিপিআর দিয়েও বাঁচানো যায়নি ৪ জীবন
উজ্জয়িনীর জ্যেষ্ঠ পুলিশ আধিকারিক প্রদীপ শর্মা জানান, চেম্বার থেকে বের করার পরপরই মৃত কর্মীদের বাঁচানোর জন্য সিপিআর (CPR) দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ততক্ষণে তাঁদের মৃত্যু ঘটেছিল।

নিহত চার কর্মী হলেন— কমলেশ তাম্বোলি, নীতিন বাল্মিক, মনোজ মীনা এবং ওয়াহিদ। তাঁদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অপর দুই কর্মীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তদন্তের নির্দেশ ও আর্থিক সাহায্য ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এটি নেহাতই একটি দুর্ঘটনাবশত ঘটনা নাকি উপযুক্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য চেম্বারে নামতে বাধ্য করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে উজ্জয়িনী পুলিশ।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নিহত কর্মীদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *