রচনাকে নতুন দায়িত্ব দিল রাজ্য সরকার, জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাংসদ কোন পদ পেলেন?

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ছেড়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম চর্চিত নাম হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই শিবির বদল এবং দলবদলের রাজনীতির আবহেই এবার বড়সড় পদ ও নতুন দায়িত্ব পেলেন তারকা সাংসদ।

রাজ্য সরকারের ‘ডিস্ট্রিক্ট ইলেকট্রিসিটি কমিটি’ (District Electricity Committee)-র চেয়ারপার্সন হিসেবে নিযুক্ত করা হলো রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এখন থেকে হুগলি জেলার যাবতীয় বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা এবং পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ের তদারকি করবেন তিনি। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ইতিমধ্যেই হুগলি জেলার জেলা শাসকের (DM) দপ্তরে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে প্রথম রিভিউ বৈঠকও সেরে ফেলেছেন তিনি।

‘দিদি নম্বর ১’ থেকে অপসারণ ও বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা

তৃণমূলের ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবির ছেড়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র দিকে ঝোঁকার পর থেকেই একের পর এক নাটকীয় মোড় দেখেছে রচনার রাজনৈতিক ও গ্ল্যামার জীবন। ছাব্বিশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরই দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় টিভি শো ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।

তবে সেই ধাক্কা সামলে উঠে নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় এখন রচনার ঝুলিতে এসেছে প্রশাসনিক দায়িত্ব। শুধু তা-ই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

“তৃণমূল জিতলে দলেই থাকতাম!” বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি রচনার

দলবদলের পর থেকে একাধিক দুর্নীতির ইস্যুতে সরব হয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তিনি দাবি করেন:

“দলের ভেতর যে এত দুর্নীতি চলছে, তা আমি আগে ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি। এমন দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবেশে কাজ করা অসম্ভব, তাই দল ছেড়েছি।”

তবে এখানেই শেষ নয়, এক সাক্ষাৎকারে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সত্য স্বীকার করে রচনা বলেন, তৃণমূল নির্বাচনে জিতলে তিনি হয়তো দল ছাড়তেন না। কিন্তু দল হেরে যাওয়ায় এবং কাজের স্বার্থে তিনি দল পরিবর্তন করেছেন।

তাঁর কথায়, “আমি কোনো রাজনীতি বা দল বুঝি না, সাংসদ হিসেবে মানুষের কাজ করতে চাই। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে একটা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের খুব প্রয়োজন ছিল। আর নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে অল্প দিনেই অসাধারণ কাজ করছে।”

সংসদ ভবন থেকে মহাকরণ: রচনা-আখ্যান

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে হুগলি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন রচনা। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা পরবর্তী রাজনীতির সমীকরণ বদলাতেই লোকসভার আরও ১৮ জন সাংসদের সঙ্গে একযোগে শিবির বদলে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ alliance-কে সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও জমা দেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ ছেড়ে মোদী-শুভেন্দুর পাশে দাঁড়ানোর পুরষ্কার হিসেবেই রচনার ঝুলিতে এই নতুন সরকারি চেয়ারপার্সনের পদ এলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *