ভেন্যুর চেয়ে বড়, ক্রেটার চেয়েও চওড়া! হুন্ডাইয়ের নতুন অবতার ‘Bayon’ কেড়েই নেবে প্রতিযোগীদের ঘুম

ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল বা এসইউভি (SUV)-র চাহিদা দিন দিন আকাশছোঁয়া। ক্রেতাদের এই বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে একাধিক গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা নিত্যনতুন মডেল বাজারে নিয়ে আসছে। আর সেই পথেই এবার নতুন চমক নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হুন্ডাইয়ের নতুন মডেল ‘Hyundai Bayon’। দুর্দান্ত ডিজাইন, আকর্ষণীয় লুক ও আধুনিক সব প্রিমিয়াম ফিচারে ঠাসা এই এসইউভি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

আকারের দিক থেকে এই গাড়িটি হুন্ডাইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় মডেল ‘Venue’-র চেয়ে বড় এবং বহুল বিক্রীত ‘Creta’-র থেকেও খানিকটা বেশি চওড়া। ফলে যাঁরা স্পোর্টি ও স্টাইলিশ লুকের পাশাপাশি গাড়ির ভেতর অতিরিক্ত জায়গা বা স্পেস পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই গাড়িটি দুর্দান্ত বিকল্প হতে চলেছে।

স্পোর্টি ডিজাইন ও গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স
হুন্ডাইয়ের গ্লোবাল কে (Global K) প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এই নয়া Bayon। গাড়িটিতে রয়েছে:

বোল্ড এল-শেপ (L-shaped) ডিআরএল (DRL) এবং আধুনিক এলইডি হেডলাইট।

গাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে দেওয়া হয়েছে চমৎকার ১৭-ইঞ্চির অ্যালয় হুইল ও স্পোর্টি ক্ল্যাডিং।

খারাপ ও অসমান রাস্তায় সহজে যাতায়াতের জন্য গাড়িটিতে দেওয়া হয়েছে ২০৫ মিমি (205mm)-র শক্তিশালী গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স।

প্রিমিয়াম ও হাই-টেক ফিচার্সে ঠাসা কেবিন
গাড়িটির ভেতরের কেবিন অত্যন্ত আধুনিক ও প্রিমিয়াম ডিজাইনে তৈরি। ড্যাশবোর্ডে নজর কাড়বে ১২.৩-ইঞ্চির বিশালাকার ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং বড় টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম।

এছাড়াও আধুনিক সুরক্ষার জন্য এতে রয়েছে:

৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা এবং ব্লাইন্ড ভিউ মনিটর।

লেভেল-২ এডাস (Level-2 ADAS) সুরক্ষা প্রযুক্তি, যা কঠিন পরিস্থিতিতে ড্রাইভারকে সতর্ক ও সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

ফ্রন্ট ভেন্টিলেটেড সিট, প্যানোরামিক সনরুপ, ইলেকট্রিক পার্কিং ব্রেক এবং পাওয়ারড ড্রাইভার সিট।

গাড়ির টাচস্ক্রিন সিস্টেমে রয়েছে বিশেষ এআই (AI) অ্যাসিস্ট্যান্ট, যা ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা সহজে বুঝতে সক্ষম।

কত বড় বूट স্পেস ও লেগরুম?
পরিবার নিয়ে দূরে কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার জন্য গাড়িটির পেছনে রয়েছে বিশাল ৫০৫ লিটারের বूट স্পেস। ব্যাক সিটে বসা যাত্রীদের আরামের কথা ভেবে দেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত লেগরুম ও শোল্ডার রুম। পেছনের সিটে রয়েছে ‘রিক্লাইন ফিচার’, যাতে দীর্ঘ যাত্রায় যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো হেলান দিয়ে বসতে পারেন। তবে ক্রেটার মতো পেছনের জানালায় সানব্লাইন্ড বা পাওয়ারড বুট রিলিজের মতো সামান্য কিছু ফিচার এতে পাওয়া যাবে না।

শক্তিশালী ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স
গাড়িটিতে দেওয়া হয়েছে ১.৫-লিটারের চার-সিলিন্ডার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন, যা ১১৫ বিএইচপি (115bhp) পাওয়ার জেনারেট করতে সক্ষম। গাড়িটি ৬-স্পিড ম্যানুয়াল এবং আইভিটি (iVT) অটোমেটিক গিয়ারবক্স অপশনে মিলবে। এর অটোমেটিক ভ্যারিয়েন্টে দেওয়া হয়েছে বিশেষ প্যাডেল শিফটার্স এবং ‘বুস্ট মোড’, যা দ্রুত স্পিড তুলতে দারুণ কাজ করে। তবে গাড়িটি আপাতত কেবল পেট্রোল ইঞ্জিনেই পাওয়া যাবে; ডিজেল, টার্বো, হাইব্রিড বা সিএনজি (CNG) ভ্যারিয়েন্টের অপশন এতে রাখা হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *