৮টি ছাগল নিয়ে সোজা পাকিস্তানে ঢুকে পড়লেন ভারতীয় মহিলা! এলওসি-তে এই কাণ্ডে তাজ্জব নিরাপত্তা বাহিনী!

জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী জেলা পুঞ্চের নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LoC) সামনে এল এক অত্যন্ত তাজ্জব এবং আশ্চর্যজনক ঘটনা। সেখানে এক ভারতীয় মহিলা নিজের আট-আটটি ছাগল নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে সোজা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) দিকে চলে গিয়েছেন! একটি বা দুটি নয়, এক সঙ্গে আটটি ছাগল নিয়ে কীভাবে তিনি অতন্দ্র পাহারা এড়িয়ে ওপারে পৌঁছালেন, সেই খবর সামনে আসতেই নিরাপত্তা সংস্থাজুড়ে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সীমান্ত পার
সেনা ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত পার হওয়া ওই মহিলার নাম রুবিনা কাউসার। তিনি পুঞ্চের করণী গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ শফির স্ত্রী।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় করণী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা থেকে আটটি ছাগল চরাতে চরাতে তিনি নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) অতিক্রম করে পিওকে-র দিকে চলে যান। তবে এটি কি কেবলই পথ ভুল করা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা লুকিয়ে রয়েছে— তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা।
ঘটনার তদন্তে নেমেছেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই সেনা ও পুলিশ প্রশাসনের তরফে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন যে ঠিক কী পরিস্থিতিতে বা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই মহিলা এলওসি পার হয়ে ওপারে পৌঁছালেন।
নিয়ন্ত্রণ রেখার মতো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় এতগুলি ছাগল নিয়ে কীভাবে তিনি সীমান্ত পার হতে সক্ষম হলেন, সেই সব প্রশ্ন ও রহস্যের উত্তর খুঁজছে নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দারা।
সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত পথ ভুলের ইতিহাস
অবশ্য পুঞ্চ বা রাজৌরি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে এই ধরণের ঘটনা একেবারেই প্রথম নয়। এর আগেও ছাগল বা গবাদি পশু চরাতে গিয়ে ভুলবশত সীমান্ত পার হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছিল।
আসলে, জম্মু ও কাশ্মীরের বহু পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং কোথাও কোথাও সঠিক সময়ে কাঁটাতারের বেড়া (Fencing) না থাকার কারণে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা বা তাঁদের গবাদি পশু প্রায়শই পথ হারিয়ে ওপারে চলে যায়। ইতিপূর্বেও পুঞ্চ ও রাজৌরি অঞ্চলে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে স্থানীয় মহিলা বা কিশোরীরা অনিচ্ছাকৃতভাবে এলওসি পার হয়ে গেলে পরবর্তীতে মানবিকতার খাতিরে দুই দেশের সেনাবাহিনীর ফ্লাগ মিটিংয়ের (Flag Meeting) মাধ্যমে তাঁদের নিরাপদভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বর্তমানে ওই মহিলাকেও ফেরত আনার বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক বা সেনা পর্যায়ের যোগাযোগ করা হচ্ছে কি না, সেদিকেই নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।