মধ্যরাতে তরুণী-রহস্য থেকে বাঁকুড়ায় রেললাইনে ছিন্নভিন্ন দেহ! রহস্যময় পরিণতি ডিআইবি ইন্সপেক্টর জয়ন্ত পালের!

বিতর্কিত ডিআইবি (DIB) ইন্সপেক্টর জয়ন্ত পালের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চরম শোরগোল ও চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাঁকুড়া শহরের কেঠারডাঙা রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের ওপর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এই পুলিশ আধিকারিকের খণ্ডবিখণ্ড ও ছিন্নভিন্ন দেহ। ঘটনার খবর পেয়েই স্থান কাল পাত্র বিবেচনা করে দেহটি উদ্ধার করে রেল পুলিশ। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য তা বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে এটি কেবলই একটি ট্রেন দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে রয়েছে আত্মহত্যার কোনো চরম পদক্ষেপ, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।

দুর্ঘটনার তত্ত্ব উড়িয়ে দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা
ঘটনাস্থল কেঠারডাঙা রেলগেট ঘিরে যে তথ্য সামনে আসছে, তা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর তত্ত্বকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি:

বন্ধ রেলগেট ও সাবওয়ে: প্রায় এক বছর আগে কেঠারডাঙা রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় সাবওয়ে তৈরি হওয়ায় রেলের তরফ থেকে ওই রেলগেটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপরন্তু, ওই বন্ধ গেট দিয়ে পারাপার করলে প্রায়শই রেল পুলিশ ধরে মোটা অঙ্কের জরিমানা করে। ফলে কোনো পুলিশ আধিকারিক জেনেবুঝে ওই জায়গা দিয়ে লাইন পার হবেন— এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা।

গেটের থেকে ৫০ মিটার ভেতরে দেহ: দুর্ঘটনাস্থলটি মূল বন্ধ রেলগেট থেকে প্রায় ৫০ মিটার ভেতরের দিকে। যদি কেবল লাইন পার হওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য হতো, তবে মূল গেট ছেড়ে কেন তিনি অতটা ভেতরের দিকে হেঁটে যাবেন?

এলাকাবাসীদের সিংহভাগের দাবি, ওই পুলিশ আধিকারিক আত্মহত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই ফাঁকা লাইনের ওপর উঠে গিয়েছিলেন। তবে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।

মধ্যরাতে গুলির লড়াই ও ‘তরুণী-রহস্যে’ জড়িয়েছিলেন জয়ন্ত পাল
উল্লেখ্য, নিহত ইন্সপেক্টর জয়ন্ত পাল পূর্বে একাধিক বিতর্কিত ঘটনায় সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চণ্ডীতলার আইসি থাকাকালীন এক মধ্যরাতে রহস্যজনকভাবে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। সেই সময় একটি চাঞ্চল্যকর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, জয়ন্ত পাল নিজের গাড়ি থেকে নেমে নিজেই নিজের হাতে গুলি চালান। আর ওই ঘটনার পরপরই সেই সাদা রঙের গাড়ি থেকে তড়িঘড়ি নেমে এক তরুণী দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে, ৭ এমএম পিস্তল থেকে গুলি চালানো হয়েছিল এবং গাড়িতে থাকা তরুণী ছিলেন ওই পুলিশ অফিসারের বিশেষ বান্ধবী। অভিযোগ ওঠে, কেনাকাটার জন্য ২৫-৩০ হাজার টাকা সংক্রান্ত বচসার জেরেই নাকি সেই রাতে কাণ্ডটি ঘটেছিল।

সেই ঘটনার পর জুপিটার সদৃশ নানা অভিযোগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জন সামনে আসার জেরে তাঁকে চণ্ডীতলার আইসি পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়। পরবর্তীতে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে বাঁকুড়ায় ডিআইবি (DIB) ইন্সপেক্টর পদে দায়িত্ব পান তিনি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রেললাইনের ধারে তাঁর এই ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্তম্ভিত পুলিশ মহলের বড় একটা অংশ। তদন্তকারীরা গোটা ঘটনার প্রতিটি কোণ গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *