. “বিরোধীরা ধর্ষকের পক্ষে না আইনের পক্ষে?” উত্তরবঙ্গে নেমেই এনকাউন্টার বিতর্ক ও রাহুল-খাড়গেকে ধুয়ে দিলেন দিলীপ!

কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছেই রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনীতি, এনকাউন্টার ইস্যু এবং বিরোধী শিবিরের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বুধবার বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই এনকাউন্টার বিতর্ক থেকে শুরু করে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে চাঁচাছোলা প্রতিক্রিয়া দেন তিনি।
রাজ্যে সাম্প্রতিক একাধিক গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের এনকাউন্টার এবং পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানান, “সাজা আদালত দেবে। কিন্তু আইনের বিরুদ্ধে কেউ কাজ করলে, কিংবা আইন থেকে পালাতে চাইলে, বাধ্য হয়ে পুলিশকে পদক্ষেপ করতেই হবে। সেটাই হচ্ছে।”
অতীতে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আগে পুলিশ কেবল দেখত কিন্তু কিছু করত না, ফলে পুলিশের ওপর জনগণের খুব একটা বিশ্বাস ছিল না। কিন্তু এখন পুলিশ আইন অনুযায়ী যা যা করার দরকার, ঠিক সেটাই করবে।”
বিরোধীদের অবস্থান ও রাহুল গান্ধীকে খোঁচা
রাজ্যে অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকেও একহাত নেন রাজ্য বিজেপির এই শীর্ষ নেতা। বিরোধীদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে দিলীপ বলেন, “বিরোধীরা আসলে ঠিক কার পক্ষে? তাঁরা ধর্ষকের পক্ষে না কি আইনের পক্ষে, আগে বিরোধীদের ডেকে সেটাই জিজ্ঞেস করুন।”
সম্প্রতি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিচার বিভাগীয় সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিবাদ জারি রাখার বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তাকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ওদের তো আর নতুন কোনো কাজ নেই, তাই ওটাই করবে! ভোটে বিজেপিই বারবার জিতবে, আর ওরা এভাবে কেবল বিরোধিতাই করে যাবে।”
“মানুষ কিন্তু কোনো ভুল করবে না, বিজেপির সঙ্গেই থাকবে”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং দলের প্রবীণ নেতা পৃথ্বীরাজ চৌহানের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে নতুন করে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ওঁদের বয়সের দিকেও সবার খেয়াল রাখা উচিত। এই বয়সে মানুষ সাধারণত বিশ্রাম নেয়, কিন্তু ওঁরা তা করছেন না। কংগ্রেস সারা জীবন ধরে এই ধরনের ভুলই করে যাবে।”
কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “ওই দলের সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে— সবাই আর কত কত ভুল করবেন! তবে দেশের জনগণ কিন্তু কোনো ভুল করবে না। তারা বরাবর বিজেপির পক্ষেই থাকবে।”
অন্যদিকে, বিরোধীদের নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সোনিয়া গান্ধীর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখে মৃদু হাসি নিয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী সংক্ষেপে উত্তর দেন, “চলে আসবেন, এখন পুজো কাটাচ্ছেন।”