বাম-ঘেঁষা ‘বুদ্ধিজীবী’ থেকে তৃণমূলের হেভিওয়েট! রাজনীতির দীর্ঘ লড়াইয়ে কেন থমকালেন ইন্দ্রনীল?

তৃণমূল শিবিরের অন্দরে তাঁর আগমন এবং উত্থান ছিল ঠিক যেন এক রূপকথার মতো। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাল আবহেও রাজনৈতিক মহলে তাঁকে মানুষ চিনতেন একজন বাম-ঘেঁষা ‘বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে। তবে সময় গড়াতেই নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও দক্ষতার জোরে তিনি হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও পরম প্রিয় পাত্র।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে নিচু তলার কর্মী— সবারই জানা ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পাশে থেকে থেকেই তিনি শিখে নিয়েছিলেন রাজনীতির মূল মন্ত্র: “চলার কোনো শেষ নাই, থামার চেষ্টা বৃথা তাই!” কিন্তু দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে থমকাতে হলো তাঁকে।
চন্দননগরে পরাস্ত হেভিওয়েট
২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির চন্দননগর আসন থেকে টানা জয়ী হয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছিলেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই চন্দননগর আসনেই পরাজিত হন তিনি। আর এই হার দিয়েই থমকে যায় তাঁর টানা দু’বারের বিধায়ক পদ ও নির্বাচনী জয়ের ধারা।
চড়াই-উতরাইয়ের দীর্ঘ পথ
২০১১ সালে তৃণমূলের উত্থানলগ্ন থেকে শুরু করে বিগত বছরগুলোতে রাজনীতি এবং প্রশাসনে নিজের অবস্থান মজবুত রাখতে অনেক কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে ইন্দ্রনীলকে। একাধিকবার পা পিছলে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হলেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তিনি চতুরতার সঙ্গে সামলে নিয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, রাজনৈতিক জীবনে পাওয়া অনেক আঘাত ও কটাক্ষই তিনি নীরবে ও মুখ বুজে সহ্য করেছেন।
রাজনীতির ময়দানে প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার ইতিহাস তাঁর থাকলেও, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনী ধাক্কা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে।