পাসপোর্ট সাইজ ছবি জমা দিতে গিয়ে উধাও! ৫ বছর পর পুলিশ যা দেখতে পেল, তা দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়!

বিহারের বাঙ্কা জেলায় পুলিশি তৎপরতা ও দীর্ঘ তদন্তের পর সামনে এলো এক চরম বিস্ময়কর ঘটনা। বাঙ্কা সদর থানার পুলিশ গত ৫ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা দুই যুবতী এবং কলেজ থেকে হায়ার সেকেন্ডারি (ইন্টারমিডিয়েট)-এর মার্কশিট তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক নাবালিকাকে অবশেষে উদ্ধার করেছে। তবে পুলিশি তদন্তে সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য যা সামনে এসেছে, তা হলো— মার্কশিট আনতে গিয়ে গায়েব হওয়া সেই নাবালিকা আজ দুই সন্তানের জননী! অন্যদিকে, বাকি দুই যুবতী নিজেদের প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নতুন সংসার সাজিয়েছেন।
দীর্ঘ সময় পর এই নিখোঁজ মেয়েদের জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন তাঁদের পরিবার।
যেভাবে নিখোঁজ ও উদ্ধার:
পুলিশি নথিপত্র এবং দায়ের হওয়া অভিযোগ অনুসারে ঘটনাগুলির বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
খগড়িয়া থেকে উদ্ধার আরসিনা: ২০২১ সালে বাঙ্কা শহরের আহমেদ নগর এলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন আরসিনা নামের এক যুবতী। পরিবারের এফআইআর-এর ভিত্তিতে বাঙ্কা সদর থানায় অপহরণের মামলা রুজু হয়। সম্প্রতি গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীর কুমারের নেতৃত্বে একটি টিম খগড়িয়া জেলার পাসরাহা থানার মোহাদ্দিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আরসিনাকে উদ্ধার করে।
সমস্তিপুর থেকে মিলল অনুরাধার সন্ধান: ২০২১ সালেই বাঙ্কার জগৎপুর এলাকা থেকে অনুরাধা কুমারী নামের আরও এক যুবতী নিখোঁজ হন। পুলিশি তদন্তের জালে শেষমেশ সমস্তিপুর জেলার সিংঘিয়া থানার সালেপুর গ্রাম থেকে অনুরাধাকে উদ্ধার করা হয়। জেরায় জানা যায়, আরসিনা ও অনুরাধা—উভয়েই নিজ নিজ প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন।
সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ঘটনা:
তৃতীয় এবং সবচেয়ে রহস্যময় ঘটনাটি ঘটেছিল বাঙ্কা সদর থানা এলাকারই একটি গ্রামে। ৫ বছর আগে এক নাবালিকা ছাত্রী নিজের কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েটের মার্কশিট তুলতে বাড়ি থেকে বের হয়, কিন্তু আর ফেরেনি। বহু খোঁজাখুঁজির পর পরিবার বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল। সম্প্রতি পুলিশ তাকে উদ্ধার করার পর জানতে পারে, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে সে তার প্রেমিকের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করছিল এবং বর্তমানে সে দুই সন্তানের মা!
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ:
বাঙ্কা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীর কুমার জানিয়েছেন, “বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এই নিখোঁজ মামলাগুলির নিষ্পত্তি করা পুলিশের জন্য এক বিরাট সাফল্য। তিন জনকেই বাঙ্কায় নিয়ে আসা হয়েছে।”
নিয়ম অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া তিন জনেরই প্রয়োজনীয় শারীরিক ও ফোরেনসিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে। পাশাপাশি, নতুন আইন অর্থাৎ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী আদালতে তাঁদের জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ ও শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।