“হ্যাঁ, আমরা হিন্দুদের দল, কপালে তিলক পরি!” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার উপনির্বাচনে জয়ী দুই নতুন সদস্যের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বসল জমজমাট রাজনৈতিক আসর। বুধবার বিধানসভায় হাসিরানি রথ এবং শাখারভ সরকারের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী ও নেতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শপথের পরেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধীদের আক্রমণ, নিজের ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

‘আমরা সনাতনে বিশ্বাস করি, তবে কাজই আমাদের ধর্ম’
বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের তরফে প্রায়শই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ তোলা হয়। তার কড়া জবাব দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “হ্যাঁ, আমরা হিন্দুদের দল। আমরা সনাতনে বিশ্বাস করি এবং কপালে তিলক পরে গর্ববোধ করি। যাঁরা আমাদের এই পরিচয়ে চিহ্নিত করেন, তাঁরা সেটা জেনেই রাখুন। কিন্তু সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্ম বা পরিচয় নয়, যাঁর প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তিনিই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” তিনি আরও জানান, ৩০০টি বুথের মধ্যে ১০০টি সনাতনী বুথ এবং ২০০টি সংখ্যালঘু বুথেও তাঁরা জয় পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে সব অংশের মানুষই পাশে রয়েছেন।

‘এ তো সবে চা-বিস্কুট, আসল লাঞ্চ এখনও বাকি!’
উপনির্বাচনের দুর্দান্ত ফল তুলে ধরে বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলতায় এক লক্ষ ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে দেবাংশু পণ্ডার জয় এবং শাখারভ সরকারের প্রায় ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই বিপুল রায় সরকারের প্রতি মানুষের অবিচল আস্থার প্রতীক। এরপরই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়ে তিনি বলেন, “এ তো সবে ব্রেকফাস্টের আগের চা-বিস্কুট খাচ্ছেন! এখনও লাঞ্চ বাকি আছে। দেখতে থাকুন কী হয়।” আগামী দিনে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার ইশারা দিলেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ প্রশাসন। বিরোধী দলনেতার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে হলফনামা ভর্তি ট্রাক ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, বিরোধী দলনেতা এফআইআর করলে সিবিআই নয়, তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি-কে দেওয়া হবে।

ক্যামাক স্ট্রিট ও কালীঘাট নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজয়ী হাসিরানি রথের প্রয়াত ছেলের সঙ্গে নিজের পুরনো সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী সিবিআই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মুখ খোলেন। তাঁর জোরালো প্রশ্ন, খুনের নেপথ্যে থাকা ২ কোটি টাকা কোথা থেকে এসেছিল? সেই টাকার উৎস কি ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট নাকি ডায়মন্ড হারবারে লুকিয়ে রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখবে সিবিআই।

পাশাপাশি, নিজের বয়স ৭৫ বছর হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই বয়সে প্রবীণ নেতাদের বিশ্রাম নেওয়া উচিত। ভবানীপুর আসন ছেড়ে নন্দীগ্রাম বেছে নেওয়া এবং চোরবাগান কাণ্ডে যুক্ত অপরাধীদের কাউকেই যে রেয়াত করা হবে না, সে বিষয়েও এদিন কঠোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *