শপথ নিয়েই বিস্ফোরক শুভেন্দু! ২ কোটির সুপারির টাকা কি ক্যামাক স্ট্রিট বা কালীঘাট থেকে? তুলকালাম রাজ্য রাজনীতি

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে রাজ্য বিধানসভায় শপথ নিলেন হাসিরানি রথ। বুধবার তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসিরানিকে বিধানসভায় স্বাগত জানিয়ে এবং তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে সিবিআই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে সরাসরি ক্যামাক স্ট্রিট এবং কালীঘাটের দিকে ইঙ্গিত করে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন তিনি।
চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি হাসিরানি দেবীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাব। তাঁর বুকে গভীর ব্যথা রয়েছে। আমার একনিষ্ঠ সহযোগী তথা তাঁর তরুণ পুত্রকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় শ্যুটার ও সুপারি কিলার সহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এখন কেবল বাকি রয়েছে— এই খুনের জন্য ২ কোটি টাকার সুপারি কে দিয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আনা। আমার পূর্ণ বিশ্বাস, সিবিআই সেই সত্য সামনে আনবে।”
পুত্রহারা মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বায়ুসেনায় কাজ করা তরতাজা এক দেশপ্রেমিক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। তিনি নিশ্চয়ই ন্যায়বিচার পাবেন। তদন্ত অনেকটাই এগিয়েছে। এখন শুধু জানা বাকি, ওই ২ কোটি টাকা কোথা থেকে এসেছিল? সেই টাকা কি ক্যামাক স্ট্রিট থেকে এসেছিল, না কালীঘাট থেকে, নাকি ডায়মন্ড হারবার থেকে কেউ দিয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর মিললেই তদন্তের বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে।”
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া নন্দীগ্রাম আসনেই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রার্থী করা হয়েছিল প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি দেবীকে। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি এবার বিধানসভায় পা রাখলেন। এই জয়ের জন্য নন্দীগ্রামের জনগণকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। কেন তিনি ভবানীপুর আসন ছেড়ে নন্দীগ্রাম বেছে নিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষ অভিমান করে আমাকে বলেছিলেন যে আমি ভবানীপুর ছাড়তে পারতাম। আমি তাঁদের বুঝিয়ে বলেছি যে ভবানীপুর ছাড়লে যিনি অতীতে দু’বার আমার কাছে হেরেছেন, তিনি ফের দাঁড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতেন। ৭৫ বছর বয়সে ওঁর আর না দাঁড়ানোই ভালো। এই বয়সে বিশ্রামের কথা। সেই কারণেই আমি নন্দীগ্রাম ছাড়িনি।” পরিশেষে, হাসিরানি দেবীর হাত ধরে নন্দীগ্রামবাসীকে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জোরালো বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।