পায়ের জেদি ট্যান নিয়ে চিন্তিত? পার্লারের খরচ বাঁচিয়ে বাড়িতেই পান মাখনের মতো নরম ও উজ্জ্বল পা!

সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মি, ধুলোবালি এবং ঘামের কারণে আমাদের পায়ের ত্বক খুব দ্রুত কালচে হয়ে পড়ে। এর ফলে ত্বকের স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে যায় এবং তা শুষ্ক ও নিষ্প্রভ দেখাতে শুরু করে। রূপচর্চার ক্ষেত্রে আমরা মুখ বা হাতের ওপর কতটা যত্ন নিই, তার অর্ধেক নজরও কিন্তু পায়ের দিকে দিই না।

পায়ের এই জেদি ট্যান দূর করতে এবং পা-কে সুন্দর ও মসৃণ রাখতে আপনাকে আর পার্লারে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হবে না। হাতের কাছে থাকা কয়েকটি ঘরোয়া উপকরণ দিয়েই বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন চমৎকার পেডিকিউর ওয়াটার।

জেনে নিন পেডিকিউরের জলে কোন কোন উপাদান মেশালে মিলবে জাদুকরী উপকার:

লেবুর রস: লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। পেডিকিউরের ইষদুষ্ণ জলে ১-২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিলে তা ত্বকের কালচে ভাব দ্রুত হালকা করে পা-কে উজ্জ্বল করে তোলে।

বেকিং সোডা: এটি একটি চমৎকার এক্সফোলিয়েটর। পেডিকিউরের জলে ১ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখলে তা জমে থাকা মৃত কোষ (Dead Cells) তুলে ত্বককে মসৃণ করে।

গোলাপ জল: গোলাপ জল পায়ে শীতল অনুভূতি দেয় এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। পেডিকিউরের জলে সামান্য গোলাপ জল মেশালে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে পা সতেজ হয়ে ওঠে।

মধু: মধু হলো প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। রোদে পোড়া ভাব বা শুষ্কতা দূর করে পায়ের ত্বককে কোমল ও পুষ্ট রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিসীম।

নুন: জল হালকা গরম করে তাতে নুন মিশিয়ে নিলে তা পা থেকে জমে থাকা ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া দূর করে। এটি পায়ের দুর্গন্ধ মেটাতেও দারুণ কার্যকর।

কাঁচা দুধ: দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে আলতোভাবে এক্সফোলিয়েট করে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরার নিরাময়কারী গুণ ত্বকের জ্বালাভাব ও ট্যানিং কমায় এবং ত্বককে গভীরে গিয়ে আর্দ্র রাখে।

বাড়িতে যেভাবে করবেন এই পেডিকিউর:
১. একটি পাত্র বা গামলায় সহনীয় হালকা গরম জল নিন।

২. ওপরে উল্লেখিত উপাদানগুলির মধ্য থেকে পছন্দমতো ৩-৪টি উপাদান সেই জলে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

৩. এবার সেই মিশ্রণে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য পা ডুবিয়ে রাখুন।

৪. এরপর একটি স্ক্রাবার বা পিউমিস স্টোন (পা ঘষার পাথর) দিয়ে আলতো করে পায়ের গোড়ালি ও তলা ঘষে পরিষ্কার করে নিন।

৫. জল দিয়ে পা ধুয়ে মোছার পর অবশ্যই ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার বা ফুট ক্রিম লাগিয়ে নিন।

বিশেষ টিপস (ফাটা গোড়ালির জন্য): শীতকালে অনেকেই ফাটা গোড়ালির সমস্যায় ভোগেন। কলার খোসার ভেতরের অংশ গোড়ালিতে ভালো করে ঘষে কিছুক্ষণ রেখে দিন। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে দ্রুত ভালো ফল পাবেন।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য সাধারণ জ্ঞানের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো নতুন ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণের আগে অবশ্যই অ্যালার্জি টেস্ট করে নিন অথবা রূপবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *