ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে ধুন্ধুমার! উত্তপ্ত জামিয়া মিলিয়ায় কি এবার বন্ধ হতে চলেছে অফলাইন ক্লাস?

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে চলা তুমুল বিক্ষোভের জেরে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের বর্তমান উত্তপ্ত ও অশান্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সমস্ত কোর্সের পঠনপাঠন সম্পূর্ণ অনলাইন মোডে নিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু ক্লাসই নয়, স্থগিত রাখা হয়েছে অফলাইন পরীক্ষাও; এমনকি দ্বিতীয় সেমিস্টারের মিড-টার্ম পরীক্ষাও এবার অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যথায়, নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ও ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন থেকে পিছু হটতে নারাজ পড়ুয়ারা।
৮ নভেম্বর পর্যন্ত সমস্ত ক্লাস ও পরীক্ষা অনলাইনে
গত ২৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঘটনার পরই পঠনপাঠন অনলাইন করার প্রথম নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। পরবর্তীতে উপাচার্য মাজার আসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, দীপাবলির ছুটি শুরু হওয়া পর্যন্ত এই অনলাইন ব্যবস্থা বহাল রাখা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং অধিকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত অনলাইন পরীক্ষার সূচি ও রূপরেখা তৈরি করা হয়। পাশাপাশি, পিএইচডি গবেষকদের তাঁদের নিজ নিজ সুপারভাইজারের সঙ্গে অনলাইনেই যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে। রেজিস্ট্রার দফতরের পক্ষ থেকে সমস্ত বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয় এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর উপস্থিতির সঠিক রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে।
১৬ দিন ধরে অনড় পড়ুয়ারা
এদিকে, ২০০৬ সাল থেকে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু করা এবং অবিলম্বে নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করার দাবিতে জামিয়া চত্বরে পড়ুয়াদের আন্দোলন মঙ্গলবার ১৬তম দিনে পদার্পণ করেছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, সংবিধানের খসড়া অনুমোদিত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে প্রশাসনের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাঁদের সাফ দাবি, খসড়া অনুমোদন করার চূড়ান্ত সময়সীমাও প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে। সবমিলিয়ে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ এই অসন্তোষ ও অচলাবস্থা কাটতে এখন ৮ নভেম্বরের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।