প্রেমিকার এক কথাতেই চরম সিদ্ধান্ত! হাইকোর্টের বারান্দার রেলিং থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের, তারপর যা হল…

সোমবার রাজস্থান হাইকোর্ট চত্বরে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ও নাটকীয় ঘটনা। বিচারপতির সামনে প্রেমিকা তাঁর সঙ্গে যাওয়ার স্পষ্ট অস্বীকার করায় চরম মানসিক অবসাদে ভুগে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক যুবক। ভরা আদালতে প্রেমিকার মুখে এমন অপ্রত্যাশিত কথা শোনার পরেই সোজা হাইকোর্টের একটি অ্যাডভোকেট চেম্বারের বারান্দার রেলিংয়ে গিয়ে চড়ে বসেন ওই তরুণ। নিচে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে সেখানে উপস্থিত সতর্ক আইনজীবীদের তৎপরতায় বড়সড় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে আটক করে এবং শান্তিভঙ্গের অভিযোগে মামলা রুজু করে।
কী ছিল পুরো ঘটনার নেপথ্যে?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আত্মহত্যার চেষ্টা করা ওই যুবকের নাম আরবাজ খান, বাড়ি জোড়পুরের বাাড়মেড় রোডের (গঙ্গানা) বাসিন্দা। কিছুদিন আগেই প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে তরুণীকে ‘বন্দি’ করে রাখার মারাত্মক অভিযোগ তুলে যোধপুর হাইকোর্টে একটি হেবিওয়েট ‘হেবিয়াস কর্পাস’ বা বন্দিপ্রত্যक्षीকরণ মামলা দায়ের করেছিলেন আরবাজ।
যুবকের সেই আবেদনের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসে আদালত। হাইকোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দেয় অবিলম্বে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে আদালতে পেশ করার। আদালতের নির্দেশ মেনেই পুলিশ নারী নিকেতন থেকে ওই যুবতীকে এজলাসে হাজির করে।
প্রেমিকার জবানবন্দিতেই ঘটে বিপত্তি
আদালতের এজলাসে বিচারপতির সামনে যখন মেয়েটিকে জেরা করা হয়, তখন তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়— তিনি পরিবারের সঙ্গে বাড়ি যেতে চান, নাকি প্রেমিকের হাত ধরে নতুন জীবন শুরু করতে চান?
জবাবে ওই তরুণী সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি প্রেমিক আরবাজের সঙ্গে যেতে ইচ্ছুক নন এবং নিজের বুয়ার (পিসিমির) সঙ্গেই বাড়ি ফিরতে চান। শুধু তাই নয়, এজলাসে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যেই আরবাজের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেকথাও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তিনি। প্রেমিকার মুখে এমন অস্বীকার করার কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আরবাজ। বিচারক ও আইনজীবীদের চোখ এড়িয়ে হন্তদন্ত হয়ে তিনি বেরিয়ে যান এবং হাইকোর্ট চত্বরের একটি অ্যাডভোকেট চেম্বারের দোতলার বারান্দার রেলিং থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও উপস্থিত আইনজীবীদের সাহসিকতায় তাঁর জীবন রক্ষা পায়।
ভুয়া ম্যারেজ সার্টিফিকেট নিয়ে জটিলতা
এই গোটা ঘটনার সমান্তরালে আদালতে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, প্রেমিক আরবাজ ওই তরুণীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক পাকা দেখাতে একটি ‘ভুয়ো ম্যারেজ সার্টিফিকেট’ বা ভুয়া বিয়ের শংসাপত্র তৈরি করেছিলেন। এই জালিয়াতির অভিযোগ এনে পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে একটি পৃথক সিভিল রিট পিটিশনও দাখিল করা হয়েছে।
আদালত সেই রিট আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করলেও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত রায় বা নির্দেশ দেয়নি। এই জটিল আইনি লড়াইয়ে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখ ধার্য করেছে আদালত। প্রেম ও আইনি মারপ্যাঁচের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা এই মুহূর্তে গোটা রাজস্থান জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।