“শামির ভাই খেললেও পিচে ধূলিসাৎ বাংলা!” কেরলের বিরুদ্ধে প্রথম দিনেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে মুখ থুবড়ল লক্ষ্মীর দল!

বৃষ্টির কাঁটা এবং স্যাঁতস্যাঁতে পিচের প্রতিকূলতা কাটিয়ে মাঠে গড়াল বাংলা বনাম কেরল রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ। তবে প্রথম দিনের শুরুতেই পিচ ভিজে থাকায় নষ্ট হয় প্রথম সেশন। নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু না হওয়ায় দিনের প্রথম দিনে মাত্র ৫০ ওভার খেলা সম্ভব হয়। আর তাতেই মারাত্মক ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে মাত্র ১৭২ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসল বাংলা দল। দলের এই হতশ্রী ব্যাটিং পারফরম্যান্সে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল।

টস এবং বাংলার চমকপ্রদ রণকৌশল: ম্যাচের শুরুতেই পিচ নিয়ে বাংলা শিবিরে ব্যাপক ধন্দ ছিল। টস জিতে কেরল প্রথমে বাংলাকে ব্যাট করতে পাঠায়। বাংলার টিম ম্যানেজমেন্টের অনুমান ছিল, ম্যাচের শেষের দিকে পিচে বল ঘুরবে। সেই বুঝে তিন স্পিনার এবং দুই পেসারের বোলিং কম্বিনেশনে দল সাজায় বাংলা। আর এই দুই পেসারের ভূমিকায় মাঠে নেমেছেন দুই ভাই—মহম্মদ শামি ও মহম্মদ কাইফ।

শুরুতেই ধাক্কা ও কোচের মাস্টারস্ট্রোক: ম্যাচের শুরুটা সতর্কভাবেই করেন বাংলার দুই ওপেনার—অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও নবাগত অঙ্কুর পাল। কিন্তু পঞ্চম ওভারে ব্যক্তিগত ১০ রান করে দিনেশান নিধিশের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অধিনায়ক অভিমন্যু।

এরপরই পিচের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব ও ব্যাটিং বিপর্যয় রুখতে এক বিশাল ফাটকা খেলেন কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল। তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে নামানো হয় অফস্পিনার আমির গনিকে। গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১ ঘণ্টা ক্রিজে টিকে থেকে ১৪ রান করেন আমির। কোচের মূল উদ্দেশ্য ছিল, রোদ উঠে পিচ শুকিয়ে যাওয়ার সময়টুকু পার করে দেওয়া, যাতে পরবর্তী ব্যাটারদের সুবিধা হয়।

অঙ্কুরের লড়াই ও ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট: কোচের সেই ফায়ার ফায়দার সুযোগ অবশ্য পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি বাংলার বাকি ব্যাটাররা। সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ও অভিষেক পোড়েলরা অত্যন্ত সহজেই নিজেদের উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেন। একা লড়াই চালিয়ে অঙ্কুর পাল চলতি মরসুমের তৃতীয় ম্যাচে এসে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে ৬৬ রান করার পর অহেতুক ঝুঁকি নিতে গিয়ে তাঁকেও আউট হয়ে ফিরতে হয়। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকালেও অভিষেক পোড়েল ক্রিজে নেমেই প্রথম বলে ড্রাইভ মারতে গিয়ে বাঁহাতি স্পিনার আদিত্য সারওয়াতের হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন। পরপর দুই ম্যাচে ব্যর্থ পোড়েল।

মাত্র ১০৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছে দল, তখন ষষ্ঠ উইকেটে দলের হাল ধরেন সুদীপ কুমার ঘরামি ও শাহবাজ আমেদ। এই জুটিতে মূল্যবান ৬২ রান যোগ হয়। সুদীপ ৩৬ রান করে আউট হলেও, ৩৫ রান করে অপরাজিত রয়েছেন শাহবাজ আমেদ। দিনের শেষে তাঁর সঙ্গী সুমন্ত গুপ্ত ১ রানে অপরাজিত আছেন।

কী বললেন কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল? প্রথম দিনের খেলা শেষে তিরুঅনন্তপুরম থেকে ফোনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল বলেন, “ব্যাটাররা শট নির্বাচনের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভুল করেছে। উইকেটে বোলারদের জন্য সেই অর্থে কোনো সাহায্য ছিল না, অথচ আমরা ভালো ব্যাট করতে পারিনি। ছেলেরা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে উইকেট ছুড়ে দিয়েছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে এটি চারদিনের ম্যাচ, কোনো ওয়ান ডে বা টি-২০ নয়। তবে আমি আশা হারাচ্ছি না। কাল অন্তত লাঞ্চ পর্যন্ত ইনিংস টেনে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের বোলিং আক্রমণ যথেষ্ট শক্তিশালী, আশা করছি আমরা ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াব।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *