“কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় চরম বাড়বাড়ন্ত!” মত্ত চালক ও ট্রাফিক আইন ভাঙায় এক রাতেই ধৃত ও মামলার পাহাড়!

উৎসবের মরশুমে আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসে রাশ টেনতে ভুলে যান অনেকে, যার জেরে তৈরি হয় আইন ভাঙার নানা নজির। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রাতেও তার ব্যতিক্রম দেখা গেল না। উৎসবের রাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভাগ যৌথভাবে বিশেষ অভিযান চালায়। আর তাতেই ধরা পড়ে একের পর এক বেনিয়ম ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
মত্ত চালক ও ট্রাফিক আইন ভাঙার পরিসংখ্যান: প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উৎসবের রাতে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো মারাত্মক অপরাধে মোট ৫৭ জন চালককে হাতেনাতে পাকড়াও করেছে পুলিশ। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে কেবল ‘ড্রিঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভ’ নয়, সার্বিকভাবে ট্রাফিক আইন ভাঙার দায়ে মোট ৩৩৫টি প্রসিকিউশন বা মামলা রুজু করতে বাধ্য হয়েছে কলকাতা পুলিশ।
আইন লঙ্ঘনের খতিয়ানটি একনজরে দেখলে চমকে ওঠার মতো:
-
হেলমেটহীন বাইক চালনা: বিনা হেলমেটে বাইক চালানোর অভিযোগে ৮৮টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
-
বেপরোয়া গতি: অতিরিক্ত গতির জেরে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর দায়ে মামলা হয়েছে ৬২টি।
-
মত্ত চালক: মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে ৫৭ জন চালক আটক হয়েছেন।
-
ট্রিপল রাইডিং: বাইকে তিন জন সওয়ার হওয়ার অপরাধে মামলা হয়েছে ৩৬টি।
-
অন্যান্য আইন লঙ্ঘন: সিগন্যাল ভাঙা সহ অন্যান্য নানা ট্রাফিক আইন অমান্যের দায়ে আরও ৯২টি মামলা রুজু করা হয়েছে।
গ্রেফতার ৩১ জন: শুধুমাত্র ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনই নয়, উৎসবের রাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৩১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রশাসন জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই নজিরবিহীন এই কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আগামী দিনেও শহরবাসীর সুরক্ষায় এই ধরনের পুলিশি চেকিং ও কড়া পদক্ষেপ অবিরাম চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।