দেওয়ালির আগেই সুপ্রিম কোর্টের বড় স্বস্তি! বাড়ি ফেরার অনুমতি পেলেন লাখিমপুর খেরির মূল অভিযুক্ত আশিস মিশ্র

দেওয়ালির ঠিক মুখে এক বড় আইনি স্বস্তি পেলেন লখিমপুর খেরি হিংসাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আশিস মিশ্র। উৎসবের মরসুমে তাঁকে নিজের বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে এই সময়সীমার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সমস্ত কড়া নির্দেশিকা ও শর্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতির (CJI) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আশিস মিশ্রর এই আবেদন মঞ্জুর করে। শুনানি চলাকালীন আশিস মিশ্রর আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন যে, গত বছরও উৎসবের মরসুমে পরিবারে যোগ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল আদালত। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এ বছরও তাঁকে পরিবারসহ উৎসব উদযাপনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। আদালত আশিস মিশ্রর মুচলেকা ও আশ্বাসকে গ্রহণ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে আগামী ১৬ নভেম্বরের মধ্যে তিনি পুনরায় আদালতে আত্মসমর্পণ (Surrender) করবেন।

কড়া শর্ত আরোপ করল শীর্ষ আদালত
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আশিস মিশ্রকে দেওয়া এই ছাড় ২০২৫ সালের ২৪ মার্চের নির্দেশের সমস্ত শর্ত সাপেক্ষেই কার্যকর হবে। এছাড়া অতিরিক্ত শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে:

তিনি এই সময়সীমা চলাকালীন কেবল নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই সময় কাটাতে পারবেন।

মামলার কোনো সাক্ষীকে কোনোভাবে প্রভাবিত করা বা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে পারবেন না।

সময়সীমা শেষ হওয়া মাত্রই নির্ধারিত দিনে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার তিকুনিয়া গ্রামে তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিক্ষোভ চলাকালীন একটি দ্রুতগামী এসইউভি (SUV) গাড়ি আন্দোলনকারীদের পিষে দেয়। এই ভয়াবহ ঘটনায় চারজন কৃষক এবং একজন সাংবাদিকসহ মোট আটজনের করুণ মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত আশিস মিশ্র হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় ​​মিশ্র টেনির ছেলে।

ট্রায়ালের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিচারপ্রক্রিয়া
এই ঘটনার পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিম্ন আদালত আশিস মিশ্রসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ গঠন করেছিল। মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রসিকিউশনকে অবশ্যই সব সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষে জানানো হয়েছে, মামলার মোট ১৩১ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতোমধ্যে ৯০ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা সম্পূর্ণ হয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই মামলায় বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের কথা জানানো হলে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, ক্রস-এক্সামিনেশন বা জিরার কাজে কোনো তাড়াহুড়ো করা যাবে না এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বা প্রমাণ যেন বাদ না পড়ে। অন্যদিকে ট্রায়াল বিচারকের বদলি প্রসঙ্গে এলাহাবাদ হাইকোর্টের আইনজীবী স্পষ্ট করেন যে, এটি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছিল এবং এই সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রশাসনিক কমিটির বিচারাধীন রয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *