ভোটের মুখেই প্রবীণ বিএসপি-বিজেপি নেতার বড় সিদ্ধান্ত! অখিলেশের হাত ধরে কোন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছেন এই প্রাক্তন আইএএস?

উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের তোড়জোড় যত ঘনিয়ে আসছে, রাজপথের রাজনৈতিক সমীকরণও ঠিক ততটাই দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এক দল থেকে অন্য দলে নেতাদের যাতায়াতের হিড়িকের মাঝেই লখনউয়ের মসনদে বসতে চলা এক বিরাট রাজনৈতিক বিস্ফোরণের সঙ্কেত মিলছে। এবার সমাজবাদী পার্টিতে (SP) যোগ দিতে চলেছেন রাজ্যের অত্যন্ত প্রভাবশালী প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক রাম বাহাদুর। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর লখনউতে সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে সমাজবাদী ফ্ল্যাগ তুলে নেবেন বলে নিশ্চিত খবর পাওয়া গেছে। বহুজন সমাজ পার্টি (BSP) সুপ্রিমো মায়াবতীর একসময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই বর্ষীয়ান প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরবর্তীতে বিজেপির হাত ধরেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁর সমাজবাদী পার্টিতে যোগদান উত্তরপ্রদেশের দলিত ও অনগ্রসর রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।
দলিত ও পাসি সম্প্রদায়ের মধ্যে রাম বাহাদুরের সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রভাব অপরিসীম। আগামী ২৬ অক্টোবর সমাজবাদী পার্টির রাজ্য সদর দপ্তরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে এসপি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এবং দলের একাধিক প্রথম সারির শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে রাম বাহাদুর সমাজবাদী পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করবেন। রাম বাহাদুর উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার জেলাশাসক (DM) এবং লখনউ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (LDA) ভাইস চেয়ারম্যানের মতো অত্যন্ত দায়িত্বশীল পদে কাজ করেছেন। ফলে প্রশাসনিক স্তরে গভীর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি সামাজিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও এক অত্যন্ত দক্ষ ও দূরদর্শী নেতা। নির্বাচন পর্বের ঠিক মুখে তাঁর এই দলবদলকে সমাজবাদী পার্টির ‘পিডিএ’ (অনগ্রসর, দলিত ও সংখ্যালঘু) কৌশলের এক মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইতিহাসের পাতায় ফিরে তাকালে দেখা যায়, প্রাক্তন এই আমলা বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ স্তম্ভ ছিলেন। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পরেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসপির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০১৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিএসপির টিকিটে লখনউয়ের মোহনলালালগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে অত্যন্ত লড়াই করে তিনি সামান্যতম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে কাজ করার সুবাদে গোন্ডা জেলার জেলাশাসক এবং লখনউ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (LDA) মতো হেভিওয়েট পদে তাঁর সফল কাজের রেকর্ড রয়েছে। প্রশাসনিক ক্ষেত্র ছাড়াও তিনি ‘ড. আম্বেদকর জাতীয় একতা মঞ্চ’-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে দলিত ও অনগ্রসর সমাজকে সামাজিক ও সাম্যবাদের আলোয় সমৃদ্ধ করতে কাজ করে গেছেন।
২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাম বাহাদুর ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে রাজ্যের পাল্টে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দলিত ভোট ব্যাংকের নতুন গতিপথ বিবেচনা করে তিনি অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সমাজবাদী পার্টির পতাকা তুলে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাসি সম্প্রদায় এবং সামগ্রিক দলিত সমাজের মধ্যে তাঁর মজবুত ভিত্তি এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অখিলেশ যাদবের দলিত ও অনগ্রসর ঐক্য গড়ার লড়াইয়ে তাঁর এই যোগদান সমাজবাদী পার্টিকে তৃণমূল স্তরে অভূতপূর্ব সাংগঠনিক শক্তি দেবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির ভোটব্যাংককে নিজেদের পক্ষে টানতে সমস্ত রাজনৈতিক দলই যখন তৎপর, তখন রাম বাহাদুরের মতো একজন প্রভাবশালী, শিক্ষিত ও সম্মানিত দলিত আমলাকে সঙ্গে পাওয়া অখিলেশ যাদবের জন্য বড় জয়। তিনি তৃণমূল স্তরে সামাজিক এবং প্রশাসনিক সমীকরণ সুচারুভাবে সামলাতে সিদ্ধহস্ত। অখিলেশ যাদবের দল এই নির্বাচনী মরসুমে রাম বাহাদুরের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং অনগ্রসর শ্রেণির ওপর তাঁর অটুট সামাজিক প্রভাবকে পূর্ণ মাত্রায় কাজে লাগিয়ে ভোট ময়দানে বড় ধরনের রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বদ্ধপরিকর।