আকাশে ভয়ংকর সংঘর্ষ! ট্রেনিং চলাকালীন দুই যুদ্ধবিমানের মুখোমুখি ধাক্কায় মৃত ৪ পাইলট!

ফিলিপিন্স বায়ুসেনার দুই যুদ্ধবিমানের মর্মান্তিক ও ভয়ংকর সংঘর্ষে কেঁপে উঠল গোটা বিশ্ব। দেশটির বটাঙ্গাস প্রদেশের বিখ্যাত ফার্নান্দো এয়ার বেসের আকাশসীমায় রুটিন ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন চলাকালীন দুটি এসএফ-২৬০ (SF-260) ট্রেনার বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আকাশে একে অপরের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এই আকস্মিক ও মারাত্মক আকাশপথে দুর্ঘটনার ফলে বিমান দুটিতে থাকা মোট চারজন দক্ষ পাইলটই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক খবরে জানা গেছে যে, প্রশিক্ষণ চলাকালীন মাঝ আকাশেই বিমান দুটি আকস্মিক সংঘর্ষের কবলে পড়ে। তীব্র অভিঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে বিমানগুলো সরাসরি এয়ার বেসের নির্ধারিত ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরেই আছড়ে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত, এয়ার বেসের সীমানার ভেতরে এই ভয়াবহ ক্র্যাশ ঘটলেও সাধারণ কর্মী বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই ফিলিপিন্স বায়ুসেনার পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বায়ুসেনার মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত ও নিখুঁত কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। যতক্ষণ না এই তদন্তের কাজ পুরোপুরি শেষ হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রযুক্তিগত বা মানবীয় ত্রুটি স্পষ্ট হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বায়ুসেনার বহরে থাকা সমস্ত এসএফ-২৬০ (SF-260) ট্রেনার বিমানের নিয়মিত উড্ডয়ন বা অপারেশন সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সামরিক আকাশ নিরাপত্তার ইতিহাসে এটি ফিলিপিন্স বায়ুসেনার জন্য অত্যন্ত বড় একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফিলিপিন্সে এর আগেও এসএফ-২৬০ মডেলের বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। চলতি বছরের গত মে মাসেই উত্তর ফিলিপিন্সের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একই মডেলের একটি ট্রেনার বিমান আকস্মিক দুর্ঘটনার মুখে পড়ে ভেঙে পড়েছিল, যার ফলে ঘটনাস্থলেই দুই সামরিক পাইলটের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়াও এর আগে ২০২৩ সালেও একটি রুটিন ট্রেনিং ফ্লাইটের সময় আরেকটি এসএফ-২৬০ টিপি মার্ কেটি বিমান একইভাবে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং তাতেও দু’জন চালক প্রাণ হারিয়েছিলেন। সামরিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের দিকে যখন ইসলামিক স্টেট (IS) বা আইএস-সমর্থিত জঙ্গিরা দক্ষিণাঞ্চলের মারাবি শহর জবরদস্তি দখল করে নিয়েছিল, সেই সংকটময় সময়ে দীর্ঘ মাসজুড়ে লাগাতার আকাশপথে বোমাবর্ষণ এবং কৌশলগত হামলায় এই এসএফ-২৬০ বিমানগুলি অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবহার করেছিল ফিলিপিন্স সেনা। বারবার একই মডেলের বিমান এভাবে দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ায় দেশের সামরিক আকাশ সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।