মন্দির দর্শনে যাওয়ার পথে মুখোমুখি ধাক্কা! রাজস্থানে ছাই হয়ে গেল একই পরিবারের ৬ জীবন!

রাজস্থানের চুরু জেলায় তারানগর রোড ধরে শ্রী দদরেবা-ন্যাংলি গ্রামের কাছে সম্প্রতি এক অত্যন্ত রোমহর্ষক ও মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যা সমগ্র এলাকাকে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে। মায়ের মন্দিরে পুজো বা দর্শন (ধোক লাগাতে) দেওয়ার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত আনন্দ নিয়ে রওনা দেওয়া একই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বহনকারী একটি চারচাকার কার এবং এক বেপরোয়া ট্রেলারের মধ্যে মুখোমুখি এই মারাত্মক সংঘাত ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত গতিতে আসা ভারী ট্রেলারের বিকট ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় ছোট কারটি। এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে ঘটনাস্থলেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে একই পরিবারের ৬ জন সদস্যের নির্মম ও মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, এবং অপর ১ জন যাত্রী অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ওই নিষ্পাপ পরিবারটি চুরু জেলার স্থানীয় বাসিন্দা বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। চুরু জেলার তারানগর তহসিলের সোমসীসর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্যরা একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে চেপে হরিয়ানার গুড়গাঁওতে অবস্থিত বিখ্যাত মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন। ভক্তিতে ভরা সেই যাত্রাপথে কোনো অসশুভ সংকেত ছিল না। কিন্তু গাড়িটি সাদুলপুর সীমান্ত এলাকার তারানগর রোডে অবস্থিত দদরেবা ও ন্যাংলি গ্রামের মধ্যবর্তী ফাঁকা রাস্তায় পৌঁছানো মাত্রই বিপরীত দিক থেকে আসা চরম গতিসম্পন্ন এক বেপরোয়া ট্রেলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কারটিকে সরাসরি সামনের দিক থেকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে।
সংঘর্ষটি এতই মারাত্মক ছিল যে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যে চারপাশে আর্তনাদ ও চিৎকার শুরু হয়ে যায় এবং নিকটবর্তী গ্রামবাসীরা সহায়তার জন্য দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রচণ্ড আঘাতের অভিঘাতে গাড়িটির ছাদ ও বডি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং গাড়ির ভেতর থাকা ৬ জন আরোহী মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারান। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়ির মেটালের ভেতরের অংশ কেটে আটকে থাকা মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। অনভিপ্রেত এই ঘটনায় যে ১ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা উচ্চ চিকিৎসা কেন্দ্রে (হায়ার সেন্টার) স্থানান্তরিত বা রেফার করা হয়েছে।
অন্য দিকে, রক্তহিম করা এই দুর্ঘটনার ঘটানোর পরপরই ঘাতক ট্রেলারের চালক নিজের গাড়িটি দুর্ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে চতুরতার সঙ্গে চম্পট দেয়। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তারানগর ও সাদুলপুর থানার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেন। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটিকে রাজপথ থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। পলাতক ট্রেলার চালকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তাকে পাকড়াও করতে সম্ভাব্য প্রতিটি আস্তানায় কড়া তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির খবর সোমসীসর গ্রামে পৌঁছানো মাত্রই সমগ্র অঞ্চলে শোকের চরম মাতম নেমে এসেছে।