নতুন উদ্যোগেই মিলবে সরকারি ফান্ড! তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের জন্য ৫০ কোটির ঐতিহাসিক উপহার দিল্লির

রাজধানী দিল্লিতে স্টার্টআপ, নতুন উদ্ভাবন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল দিল্লি সরকার। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেল ‘গো-দিল্লি ফাউন্ডেশন’ (Go-Delhi Foundation)। স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (MSME) এবং স্বাধীন গবেষকদের সর্বাত্মক সহায়তার জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০ কোটি টাকার এক বিশেষ তহবিল অনুমোদন করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
দিল্লির স্টার্টআপ ও নতুন উদ্যোগের জন্য ৫টি মূল তথ্য:
-
৫০ কোটির প্রাথমিক বাজেট: ‘গো-দিল্লি ফাউন্ডেশন’-এর কার্য পরিচালনার জন্য সরকার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
-
২১,০০০ স্বীকৃত স্টার্টআপের ভবিষ্যৎ: দিল্লিতে শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগ (DPIIT) দ্বারা স্বীকৃত প্রায় ২১ হাজার স্টার্টআপ রয়েছে, যা এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবে।
-
ধারণা থেকে বাজারজাতকরণের পূর্ণ সাহায্য: তরুণদের নতুন ব্যবসায়িক ধারণা বা ‘আইডিয়া’কে বাস্তবে পণ্য তৈরি ও বাজারে বিক্রির যোগ্য করে তুলতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গাইড করবে সরকার।
-
এক ছাতার তলায় সমস্ত সুবিধা: প্রোটোটাইপ তৈরি, ল্যাব ও টেস্টিং সুবিধার জন্য উদ্যোক্তাদের আর একাধিক দরজায় কড়া নাড়তে হবে না।
-
সরকারি সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান: এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণ ও গবেষকরা প্রশাসনিক ও সরকারি বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান বের করতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
আইডিয়া থেকে পণ্য: সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ও আইনি সহায়তা
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, অনেক সময় ভালো আইডিয়া থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, আর্থিক সংস্থান বা সঠিক পরামর্শের অভাবে অনেক নতুন স্টার্টআপ মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়। গো-দিল্লি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেই জটিলতা চিরতরে দূর করা হবে।
এই উদ্যোগের আওতায় নতুন স্টার্টআপ এবং এমএসএমই-গুলিকে: ১. প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং: প্রাথমিক পণ্যের নকশা তৈরি ও প্রোটোটাইপ বানাতে সাহায্য করা হবে। ২. পরীক্ষাগার ও পরীক্ষণ সুবিধা: গবেষণাগার ব্যবহার, টেস্টিং এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সার্টিফিকেট বা সনদ প্রদানে সরাসরি সহায়তা মিলবে। ৩. মেন্টরশিপ ও ইনকিউবেশন: শিল্প খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত নির্দেশনা এবং পরামর্শ প্রদান করা হবে। ৪. বিনিয়োগকারী ও বাজার সংযোগ: পণ্য প্রস্তুত হওয়ার পর তা বাজারজাত করতে এবং বড় বড় বিনিয়োগকারীদের (Investors) সামনে তুলে ধরে মূলধন যোগানে সেতু হিসেবে কাজ করবে এই ফাউন্ডেশন।
রাজধানীর উদ্যোক্তা সম্ভাবনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা সুবিধাগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই এই মেগা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সরকার।