ভারতীয় বিমানের জন্য় আকাশসীমা খুলতে রাজি নয় পাকিস্তান, বাড়ানো হলো নিষেধাজ্ঞা

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব এবার আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে দুই দেশের আকাশসীমায়। ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা আরও এক মাসের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (PAA) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৪ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটির সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে সমস্ত ভারতীয় বিমান সংস্থা। এমনকি ভারতীয় কোনো সংস্থার মালিকানাধীন, পরিচালিত বা ইজারা (lease) নেওয়া বিমান এবং সামরিক বিমানও পাকিস্তানের আকাশসীমা স্পর্শ করতে পারবে না।
পহেলগাঁও হামলার জের ও দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা
দুই দেশের মধ্যে এই আকাশসীমা সংক্রান্ত সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলে। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে এক মর্মান্তিক জঙ্গি হামলার পর ভারতের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক চরম তলে গিয়ে ঠেকে। ভারত সরাসরি এই হামলায় পাকিস্তানের মদতের অভিযোগ আনে, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে।
এরপরই ২৩ এপ্রিল, ২০২৫-এ প্রথমবার ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। পাল্টা জবাবে ভারতও ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানি বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর পর থেকে একাধিকবার এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর ৭,০০০ কোটির লোকসান
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের বিমান পরিবহন খাতের ওপর। বিশেষ করে ইউরোপ, যুক্তরাজ্য (UK) এবং উত্তর আমেরিকার মতো দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে যাতায়াতকারী বিমানগুলোকে এখন দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
দ্য ট্রিবিউন-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকাশসীমা বন্ধের প্রথম বছরেই ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর আনুমানিক ৭,০০০ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতি হয়েছে।
যাত্রীদের ভ্রমণ দীর্ঘায়িত, বাড়ছে পরিচালন ব্যয়
বিকল্প ও দীর্ঘ পথ বেছে নেওয়ার কারণে কেবল জ্বালানি খরচই বাড়ছে না, বরং ফ্লাইটের যাতায়াতের সময়ও কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে:
-
জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়: অতিরিক্ত দূরত্বের কারণে বিমানের পরিচালন ব্যয় হু-হু করে বাড়ছে।
-
ক্রু ও শিডিউল ট্রাবল: দীর্ঘযাত্রার কারণে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ডিউটি রোস্টার এবং শিডিউল বজায় রাখতে অতিরিক্ত বেগ পেতে হচ্ছে।
-
যাত্রীদের ভোগান্তি: উত্তর আমেরিকা বা ইউরোপগামী যাত্রীদের আকাশপথে দীর্ঘ সময় কাটাতে হচ্ছে, যার ফলে টিকিটের দাম ও ভ্রমণের সময় দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ কার্যত সম্পূর্ণ স্তব্ধ। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটের ভারতীয় বিমানগুলোকে এই বিকল্প ও দীর্ঘ পথেই চলাচল চালিয়ে যেতে হবে।