“হুবহু যেন শ্রীরামচন্দ্রের ধাম!”-মহম্মদ আলি পার্কের চমক দেখলে চোখ কপালে উঠবে!

তিলোত্তমার দুর্গোৎসবে বছরের পর বছর ধরে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু মধ্য কলকাতার বিখ্যাত মহম্মদ আলি পার্ক। ২০২৬ সালে পা দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই পুজো দেখতে দেখতে ৫৮তম বর্ষে পদার্পণ করল। প্রতি বছরের মতো এবারও এক অভূতপূর্ব ও চমকপ্রদ ভাবনায় দর্শনার্থীদের মন জয় করতে তৈরি মহম্মদ আলি পার্ক ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৬-এ তাঁদের মূল থিম— ‘প্রাচীন রাম মন্দির’।
অযোধ্যার প্রাচীন মন্দিরের অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী এবং ভারতের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে হুবহু মণ্ডপের আঙ্গিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর মীনা দেবী পুরোহিত সহ একঝাঁক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
বাঁশ-প্লাইউডে রামায়ণের রূপকথা: শিল্পকলা ও স্থাপত্যের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটেছে এবারের মণ্ডপে। শিল্পী চিরঞ্জীবের নিপুণ ছোঁয়ায় মূলত প্লাইউড এবং বাঁশ ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে এই বিশাল প্রাচীন রাম মন্দির। মণ্ডপের দেওয়াল জুড়ে শিল্পসম্মতভাবে খোদাই করা হয়েছে রামায়ণের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা ও শ্রীরামচন্দ্রের জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়। মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীরা যেন পৌরাণিক ভারতে ফিরে যাওয়ার এক আধ্যাত্মিক অনুভূতি পাবেন।
সাবেকি দুর্গা ও পাথুরে ফিনিশ: থিমের মন্দির স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেবী দুর্গার প্রতিমাতেও আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। প্রখ্যাত মৃৎশিল্পী কুশ বেরা সাবেকি শৈলীতে গড়ে তুলেছেন প্রতিমা, যাতে দেওয়া হয়েছে মার্বেলের মতো চকচকে ফিনিশ ও পাথরের অনন্য রূপ। প্রাচীন মন্দিরের ভাস্কর্যের আদলেই তৈরি করা হয়েছে দেবীর এই বিশেষ লুক। এর পাশাপাশি আলোশিল্পী গণেশ মণ্ডলের মায়াবী আলোর খেলা মণ্ডপের প্রতিটি সূক্ষ্ম কারুকার্যকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য: মহম্মদ আলি পার্ক ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র কুমার শর্মা জানান, “প্রাচীন রাম মন্দির থিমের মাধ্যমে আমরা ভারতের গৌরবময় স্থাপত্য ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি। দুর্গাপুজোর সাবেকি আমেজ বজায় রেখেই সব বয়সের মানুষের কাছে একে স্মরণীয় করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। কলকাতা ও বহিরাগত সমস্ত দর্শনার্থীদের আমরা সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”
উৎসবের দিনগুলোতে এই অনন্য শিল্পকর্ম ও আধ্যাত্মিক বাতাবরণ উপভোগ করতে মহম্মদ আলি পার্কে অগনিত মানুষের ঢল নামবে বলেই আশাবাদী পুজো কমিটি।