“জ্ঞানেশ ডুবলে সবাই ডুববে!”—এক ঝটকায় সমস্ত ইস্যু এক সুতোয় বেঁধে কী বললেন অভিষেক?

বিলবোর্ড অপসারণের ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জেরার মুখোমুখি হওয়ার পর বেরিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি যেমন ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড কাণ্ড নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন, তেমনই এক নিঃশ্বাসে দিল্লির সিজেপি (CJP) আন্দোলন এবং খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় ত্রুটি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
আইনি লড়াইয়ের হুঙ্কার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের: এদিন থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে অভিষেক বলেন, “সারা ক্যামাক স্ট্রিটে অজস্র বিলবোর্ড রয়েছে, অথচ শুধু তৃণমূলের পার্টি অফিসের বিলবোর্ডই বেআইনিভাবে খুলে ফেলা হয়েছে। আসলে ওরা তৃণমূলকে ভয় পায়, তাই পার্টি অফিস ভাঙচুর করছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে কর্মীদের জেলে ভরছে। কিন্তু আদালতের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ ভরসা আছে, আমরা এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়ব।”
মোদী-শাহকে নিশানা সিজেপি ইস্যুতে: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা কি অপরাধ? সিজেপি নেতারা তো কোনও দাঙ্গা লাগাননি বা শান্তি বিঘ্নিত করেননি। যদি তেরঙা পতাকা দেখানোর অপরাধে জেলের ভাত খেতে হয়, তবে বুঝতে হবে ব্রিটিশ আমল ফিরে এসেছে। আসলে এই সরকার জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে চাইছে। কারণ জ্ঞানেশ ডুবলে মোদী-শাহরাও ডুববেন, বিজেপির সব নেতার মুখোশ খুলে যাবে।”
মমতার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি কালীঘাট কার্যালয়েই উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রসঙ্গে অভিষেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন মহিলা হাতে ছুরি নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দিকে এগিয়ে এলেন— এটি অত্যন্ত ভয়ের এবং লজ্জার। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেন তিনি নাকি ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা দেন! যদি ভিভিআইপি নিরাপত্তার এই বহর হয়, তবে সাধারণ মানুষ এবং রাজ্যের নারীদের সুরক্ষা কোথায় গিয়ে দাঁড়াল, তা আপনারাই বিচার করুন।” একাধারে বিলবোর্ড বিতর্ক, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতি ও নিজ দলের সুপ্রিমোর নিরাপত্তা— সব মিলিয়ে অভিষেকের এই ঝাঁঝালো মন্তব্য ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতি।