পুজোর মুখেই আকাশছোঁয়া উৎসবের খরচ! ডাবল ডিজিটে পৌঁছে আগুন পাইকারি বাজার, সুদের হার বাড়াল আরবিআই

উৎসবের আনন্দ ম্লান করে দেশজুড়ে হু হু করে বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধি। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, খুচরো বাজারের তুলনায় পাইকারি বাজারে (WPI Inflation) দাম বৃদ্ধির হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। সেপ্টেম্বরে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.৩৯ শতাংশে। যেখানে ঠিক আগের মাস অর্থাৎ আগস্টে এই হার ছিল ৯.৯ শতাংশ। উৎসবের মরশুমে এমন চড়া মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের বাজেটে বড়সড় টান ফেলেছে। কয়েক দিন আগেই প্রকাশিত তথ্যে দেখা গিয়েছিল, শাকসবজি ও খাদ্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামের কারণে সেপ্টেম্বরে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার আগস্টের ৪.৮৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও শিল্পপণ্যের হাঁসফাঁস অবস্থাবাণিজ্য মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার আগস্টের ২২.৯৩ শতাংশ থেকে একলাফে বেড়ে ২৫.৮৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়া ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে এই হার ৮.৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯.৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে শাকসবজি, খাদ্যশস্য ও খনিজ পদার্থের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ‘প্রাথমিক বস্তু’-র মূল্যবৃদ্ধি ৭.৭৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.৬৭ শতাংশ ছুঁয়েছে। মন্ত্রকের মতে, মূলত খনিজ তেল, খাদ্যপণ্য, অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, মৌলিক ধাতু, রাসায়নিক ও বস্ত্রশিল্পের কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণেই পাইকারি বাজারে এত বড় লাফ দেখা গেছে।

সুদের হার বাড়াল আরবিআইমূল্যবৃদ্ধির এই অনিয়ন্ত্রিত রাশ টানতে গত অক্টোবর মাসের শুরুতেই রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫ শতাংশ করেছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম সুদের হার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা স্পষ্টভাবে জানান, “পরিস্থিতি একদম স্পষ্ট, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি অনেকটাই পাল্টে গেছে।”

উল্লেখ্য, দেশের পরিবর্তিত অর্থনৈতিক কাঠামোর সঠিক চিত্র তুলে ধরতে নতুন সিরিজের অধীনে এই পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ২০২২-২৩ সালকে বেস ইয়ার করা হয়েছে। নতুন এই সিরিজে পণ্যের তালিকা ৬৯৭টি থেকে বাড়িয়ে ৯৫৭টি করা হয়েছে এবং সৌর, বায়ু ও পারমাণবিক শক্তির মতো নতুন শক্তির উৎসগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরচলতি অর্থবর্ষের শুরু থেকেই পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। এর মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও প্রণালী বা হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা। ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলোর আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে জ্বালানি সংকটে সারের দাম মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব গিয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য পণ্যের বাজারে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *