বাজারে আসতেই ঝড় তুলল এমজি-র নতুন ইভি! দুই মাস না পেরোতেই ছাড়াল ১০,০০০ বুকিং

ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে পা রাখার দুমাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল এমজি মোটর ইন্ডিয়া। সংস্থার সদ্য লঞ্চ হওয়া নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘এমজি হেক্টর টমাহক ইভি’ এবং এর প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলটি দেশের গাড়িপ্রেমীদের মনে দারুণ দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্দান্ত এই গাড়িটির বুকিং ইতিমধ্যেই ১০,০০০-এর গণ্ডি অনায়াসেই পেরিয়ে গেছে। সাশ্রয়ী দাম, চোখ জুড়ানো আধুনিক ডিজাইন এবং হাই-এন্ড ফিচারের সুবাদেই ভারতীয় বাজারে এই গাড়িটি ঘিরে ক্রেতাদের মধ্যে এক বিশাল উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট, ২০২৬ সালে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দুটি এসইউভি একসঙ্গে ভারতে লঞ্চ করা হয়েছিল। এগুলি মূলত কোম্পানির একদম নতুন এবং সর্বাধুনিক ‘এডাপ্ট’ (ADAPT) আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রথম গাড়ি। বিশেষ করে প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলটি ভারতের বাজারে এমজি-র এমন প্রথম গাড়ি, যেখানে একই সঙ্গে শক্তিশালী পেট্রোল ইঞ্জিন এবং আধুনিক ইলেকট্রিক মোটর উভয়ের যুগলবন্দী ঘটিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

লঞ্চের সময় বাজার চলতি এই এসইউভি দুটির আকর্ষণীয় দাম রাখা হয়েছিল। এমজি হেক্টর টমাহক ইভি-র প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯.৪৯ লক্ষ টাকা থেকে। অন্যদিকে, এর বহুমুখী প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলটির এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ২৫.৬৯ লক্ষ টাকা থেকে। প্রিমিয়াম এই বৈদ্যুতিক মডেলটির ডেলিভারি ইতিমধ্যেই চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে, যা গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, এর বহুল প্রতীক্ষিত প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভি-টির ডেলিভারি চলতি বছরের নভেম্বর মাস থেকেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যার জন্য ক্রেতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

পারফরম্যান্স এবং ড্রাইভিং রেঞ্জের দিক থেকেও গাড়িটি অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। এমজি হেক্টর টমাহক ইভি-তে একটি শক্তিশালী ৬৯.২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) ক্ষমতার হেভি-ডিউটি ব্যাটারি প্যাক ব্যবহার করা হয়েছে। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে এই অত্যাধুনিক ইভি-টি এক লাফে ৫১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ পথ অনায়াসেই অতিক্রম করতে সক্ষম। বাজারে গাড়িটি মোট তিনটি আকর্ষণীয় ভ্যারিয়েন্টে উপলব্ধ রয়েছে এবং এর সমস্ত মডেলেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সিটিং ক্যাপাসিটি বা আসন সংখ্যার দিক থেকেও ক্রেতাদের সুবিধার কথা সম্পূর্ণ মাথায় রাখা হয়েছে। গ্রাহকরা তাঁদের পারিবারিক প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী ৫-সিটার কিংবা ৭-সিটার—এই দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটি মডেল বেছে নিতে পারেন। ফলে সপরিবারে দীর্ঘ সড়ক ভ্রমণ বা রোড ট্রিপে যাওয়ার জন্য যাঁদের অতিরিক্ত কেবিন স্পেস ও লাগেজ রাখার জায়গা প্রয়োজন, তাঁদের কাছে এই এসইউভিটি একটি অন্যতম সেরা ও লোভনীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, এই সিরিজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর উদ্ভাবনী প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলটি। এই গাড়িটিতে একটি ২০.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) ক্ষমতার ব্যাটারির সঙ্গে একটি শক্তিশালী ১.৫-লিটারের টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে। কোম্পানির অত্যন্ত জোরালো দাবি, পেট্রোল ইঞ্জিন এবং ইলেকট্রিক মোটর—এই উভয় শক্তির উৎসকে একসঙ্গে ব্যবহার করলে গাড়িটি সম্মিলিতভাবে এক ধাক্কায় ১,১০০ কিলোমিটারের বেশি অবিশ্বাস্য পথ পাড়ি দিতে পারে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই মডেলটি শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক শক্তিতেও স্বাধীনভাবে চালানো সম্ভব। কোম্পানির রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র পিওর ইলেকট্রিক মোডে এই গাড়িটি ১১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলতে পারে। এর ফলে শহরাঞ্চলে বা দৈনন্দিন স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ছাড়াই ইলেকট্রিক মোড ব্যবহার করা যায়, আবার দূরপাল্লার দীর্ঘ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্দ্বিধায় পেট্রোল ইঞ্জিনের ওপর ভরসা রাখা সম্ভব হয়। সামগ্রिकভাবে দেখতে গেলে, এমজি হেক্টর টমাহক ইভি-র মাত্র দুমাসে ১০,০০০-এর বেশি বুকিং আদায় করা এই ব্রিটিশ ব্র্যান্ডের ভারতীয় বাজারে এক বিরাট সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে যখন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ভ্যারিয়েন্টের ডেলিভারি পুরোদমে শুরু হবে, তখন ভারতীয় এসইউভি বাজারে এই গাড়িটি প্রতিযোগী সংস্থাদের জন্য কতটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *