জন্তর মন্তর কি এবার নিষিদ্ধ? হাতে তেরঙা নিয়ে পুলিশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভিতরে ঢুকেই বিরাট বিপদে সিজেপি নেতারা!

দিল্লির জন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশিকা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। মঙ্গলবার সকালে হাতে জাতীয় পতাকা (তিরঙ্গা) নিয়ে হঠাৎই জন্তর মন্তরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন কক্রোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (CJP)-র শীর্ষ নেতারা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই প্রতিবাদের জেরে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সিজেপি-র মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস, জাতীয় মুখপাত্র আংশুতোষ রাঙ্কা এবং নেতা অজিন্য শিন্ডেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনার পরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটির নেতৃত্ব। সিজেপি-র লিগ্যাল হেড রত্না সিং অভিযোগ তুলেছেন, জাফরপুর কলাঁ থানা আটক করা নেতাদের সঙ্গে কোনো আইনজীবীকে দেখা করতে দিচ্ছে না এবং তাঁদের ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে তিনি লিখেছেন, “কোন আইনি বলে তাঁদের আটক করা হলো এবং কেন আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না?” সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “জাতীয় পতাকা लहराনা বা তেরঙা হাতে প্রতিবাদ করা কবে থেকে আইনবিরুদ্ধ হয়ে গেল? সরকারের এই স্বৈরাচারী মনোভাব মেনে নেওয়া যায় না।” কী নিয়ে এই পুরো আন্দোলন? মূলত নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় कथित অনিয়ম, ভোট চুরি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC)-এর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। এর আগে গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশ মেনে জন্তর মন্তরকে স্থায়ী প্রতিবাদের জায়গা বা প্রটেস্ট সাইট হিসেবে তালিকাভুক্তির বাইরে (De-notify) রাখা হয়। বিক্ষোভের জন্য বিকল্প স্থান হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ড নির্ধারণ করে দেয় প্রশাসন। তবে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই এদিন আচমকা জন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন সিজেপি নেতারা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত এলাকায় বেআইনিভাবে জমায়েত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার কারণেই এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বুকে এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন এখন চূড়ান্ত আকার ধারণ করেছে।