বাম ছাত্র নেত্রীকে পাশে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক চালে রাহুল! বিরোধী মঞ্চের নেপথ্যে চলছে কোন বড় খেলা?

গত সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টমুখী মিছিলে কেবল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই পা মেলাননি, সেই জমায়েত সাক্ষী থেকেছে এক অন্যরকম রাজনৈতিক সমীকরণের। এই মিছিলে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরার ঠিক পাশেই হাঁটতে দেখা যায় ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-এর সভানেত্রী তথা তরুণ আন্দোলনকারী নেহা বোরাকে। আর প্রবীণ কংগ্রেস নেতাদের পেছনে রেখে একেবারে সামনের সারিতে তাঁর এই উপস্থিতিই এখন জাতীয় রাজনীতির অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

কে এই নেহা বোরা?
জেএনইউ-এর (JNU) পিএইচডি গবেষক এবং আইসা-র জাতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন যুব-আন্দোলনের এক অত্যন্ত পরিচিত মুখ। চলতি বছরের জুলাই মাসে ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় তিনি প্রথম জোরালোভাবে আলোচনায় আসেন। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং বাম ছাত্র সংগঠনের অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় তাঁর পরিচিতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেও ২৫ জুলাই রাহুল গান্ধীর আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে তরুণ আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

রাহুলের নতুন রাজনৈতিক কৌশল?
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এতদিন ধরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ যে যুব-নেতৃত্বাধীন সমান্তরাল আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, কংগ্রেস নেতৃত্ব সচেতনভাবেই তাদের নিজেদের বলয়ে নিয়ে আসার কৌশল নিয়েছে। সোমবারের মিছিলে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে নেহা বোরার এই সান্নিধ্য এবং কাঁধে হাত রেখে হাঁটার দৃশ্যটি স্পষ্ট করে দেয় যে, বিরোধী পরিসরে বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত ছাত্র ও যুব আন্দোলনকে একটি ছাতার তলায় এনে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা দিতে চাইছেন কংগ্রেস সাংসদ।

বিশেষ করে, ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা কিংবা অভিজিৎ দীপকে-র সঙ্গে অতীতে কংগ্রেসের টানাপোড়েন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বাকবিতণ্ডার ইতিহাস থাকলেও, নেহা বোরার মতো গ্রহণযোগ্য মুখকে সামনের সারিতে এনে রাহুল গান্ধী একাধারে যেমন নিজের নেতৃত্বকে সুদৃঢ় করছেন, তেমনই যুব সমাজের ওপর অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মঞ্চের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হওয়ার পথও কিছুটা কঠিন করে দিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে, দিল্লির রাজপথে রাহুল গান্ধীর এই হাই-ভোল্টেজ প্রতিবাদ কেবল নির্বাচন কমিশন বা সরকারের বিরুদ্ধেই লড়াই নয়, বরং বিরোধী শিবিরের মুখ কে হবেন—তা নির্ধারণের লড়াইয়েও এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *