পুজোর ভিড়ে রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা! শিয়ালদহ স্টেশনে এআই ক্যামেরা ও সেন্ট্রাল ওয়ার রুম দিয়ে চলবে কড়া নজরদারি!

দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) দিনগুলিতে রেকর্ড ভাঙা ভিড় সামলাতে এবং যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার প্রযুক্তিকে প্রধান হাতিয়ার করছে পূর্ব রেলের (Eastern Railway) শিয়ালদহ ডিভিশন (Sealdah Division)। ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ করা রেলের কাছে এক অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এবার প্রায় ৩ হাজার অত্যাধুনিক ক্যামেরার কড়া নজরদারিতে থাকতে চলেছে শিয়ালদহ ডিভিশনের ২০০টিরও বেশি স্টেশন। এআই (AI) প্রযুক্তিসম্পন্ন ফেস রেকগনিশন থেকে শুরু করে নাইট ভিশন ক্যামেরা—নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে চাইছে না রেল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এই গোটা নজরদারি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিয়ালদহের ডিআরএম অফিসের সেন্ট্রাল ওয়ার রুমে পৌঁছে গিয়েছিল ‘টিভি৯ বাংলা’।
কীভাবে কাজ করবে এই সেন্ট্রাল ওয়ার রুম?
পুজোর মরশুমে শিয়ালদহ স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে ডিআরএম অফিসে স্থায়ীভাবে এই অত্যাধুনিক সেন্ট্রাল ওয়ার রুমটি তৈরি করা হয়েছে। আরপিএফ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শিয়ালদহসহ মোট ১১টি প্রধান স্টেশনে ছোট ছোট সাব-ওয়ার রুম তৈরি করা হয়েছে, যেগুলির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অন্যান্য ছোট স্টেশনগুলিও। এই ১১টি ওয়ার রুমের সমস্ত ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি কন্ট্রোল করা হচ্ছে শিয়ালদহের সেন্ট্রাল ওয়ার রুম থেকে। শুধু তাই নয়, ট্রেনের গতি ও পরিষেবার ওপর নজর রাখতে আপডেট করা হয়েছে ইলেকট্রনিক প্যানেল বোর্ডকেও, যা সরাসরি যুক্ত রয়েছে এই ওয়ার রুমের সঙ্গে।
কোন স্টেশনে কেমন ভিড় হচ্ছে, কোথায় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ বাড়ছে কিংবা কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসছে কি না—সবকিছুই এই ক্যামেরার মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আগেই দ্রুত সংশ্লিষ্ট স্টেশনে নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা সম্ভব হবে।
অপরাধী শনাক্ত করবে এআই ক্যামেরা!
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে মোট চার থেকে পাঁচ ধরনের উন্নতমানের ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ফেস রেকগনিশন ক্যামেরা এবং নাইট ভিশন ক্যামেরা। ফেস রিকগনিশন ক্যামেরার মাধ্যমে পুরনো অপরাধীদের ডেটাবেসের সঙ্গে ভিড়ের মধ্যে থাকা মুখের ছবি মুহূর্তেই মিলিয়ে ফেলা সম্ভব। ফলে পুজোর ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পকেটমারি বা অন্যান্য অপরাধমূলক কাজকর্ম রুখতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শুধু স্টেশনের ভিতরই নয়, বাইরের চত্বরও রয়েছে এই কড়া নজরদারির আওতায়।
দিল্লি থেকে সরাসরি নজরদারি:
গত বছর দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে শিয়ালদহ ডিভিশনে যাত্রীসংখ্যা এক দিনে ২১ লক্ষে পৌঁছেছিল, যা ছিল সর্বকালের রেকর্ড। অনুমান করা হচ্ছে, এবার সেই সংখ্যাও ছাপিয়ে যেতে পারে। আর সেই কারণেই কুম্ভমেলা চলাকালীন নয়াদিল্লি স্টেশনের অপ্রীতিকর ঘটনার কথা মাথায় রেখে দিল্লি রেল বোর্ড থেকেও বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। যাতে ভিড়ের চাপে কোনো মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগাম প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখছে না পূর্ব রেল।