দিল্লিতে থেকেও সুপ্রিম কোর্টের মিছিলে গায়েব মমতা! রাহুল-প্রিয়াঙ্কার আন্দোলনে কেন গেলেন না মুখ্যমন্ত্রী? সামনে এল আসল কারণ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকায় বিতর্কিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে সোমবার বিরোধীদের সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে উত্তাল হয়ে উঠেছিল দেশের রাজধানী। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মেগা মিছিলে বিরোধী শিবিরের বড় জমায়েত দেখা গেলেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে পা মেলালেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে অবস্থান করা সত্ত্বেও এবং দলীয় সাংসদদের নিয়ে কনস্টিটিউশন ক্লাবে পৌঁছানোর পরেও কেন তিনি এই পদযাত্রায় হাঁটলেন না—তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, শনিবারই বিরোধীদের এই সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে যোগ দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা মিলেছিল। সেই মতো সোমবার কনস্টিটিউশন ক্লাবে তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে হাজিরও হন তিনি। কিন্তু পদযাত্রা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে এক আকস্মিক সিদ্ধান্ত বদল ঘটে। রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য বিরোধী নেতৃত্ব যখন তেরঙ্গা হাতে রাস্তায় নেমে শীর্ষ আদালতের দিকে এগোতে থাকেন, তখন সেই মিছিলে আর পা মেলাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলে এই শেষ মুহূর্তের পদক্ষেপের পেছনে বেশ কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ উঠে আসছে:
-
স্বতন্ত্র রাজনৈতিক লাইন বজায় রাখা: কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিচালিত পদযাত্রার চেয়ে তৃণমূল শুরু থেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও আন্দোলনকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
-
আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা: সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বিষয়ে সরাসরি মিছিল করে যাওয়ার চেয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংঘাতের মাত্রা মেপে নিতে চেয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ মহল।
-
আন্দোলনের কৌশলে ভিন্নতা: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তৃণমূল রাজপথে এবং আইনি লড়াইয়ে অনড় থাকলেও, আন্দোলনের পুরো কৃতিত্ব বা দৃশ্যমানতা যেন কেবল কংগ্রেসের ঝুলিতে না যায়—সেই কৌশলগত কারণেই এই দূরত্ব বলে মত অনেকের।
মিছিলে সশরীরে না হাঁটলেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের মূল প্রতিবাদের সুরেই তিনি অনড় রয়েছেন বলে দলের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানীর বুকে একই ছাদের তলায় এসেও শেষ মুহূর্তে বিরোধীদের যৌথ মহামিছিল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন দূরত্ব বজায় রাখা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়ে দিল।