আদালতের অনুমোদন না নিয়েই পরিবর্তন? বিতর্কিত সংশোধিত ফর্ম ৬ নিয়ে মোক্ষম ব্যাখ্যা সুপ্রিম কোর্টের, জোর অস্বস্তিতে কমিশন!

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত ‘ফর্ম ৬’ (Form 6) এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান রাজনৈতিক ও আইনি দ্বন্দ্বে বড়সড় অবস্থান স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত নতুন ‘ফর্ম ৬’-কে সুপ্রিম কোর্ট কখনই অনুমোদনও দেয়নি, আবার সরাসরি খারিজও করেনি। ফলে কমিশনের এই বদলকে আদালতের আইনি সিলমোহরপ্রাপ্ত হিসেবে তুলে ধরার কোনও সুযোগ নেই।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ এদিন এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা পেশ করে। আদালতে শুনানিপর্বে আবেদনকারীদের তরফে অভিযোগ তোলা হয় যে, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তির নিয়মে পূর্বপুরুষের তথ্য বা অতীতের এসআইআর তালিকার লিঙ্ক চাওয়ার মতো যেসব বিতর্কিত পরিবর্তন জুলাই মাসে ফর্ম ৬-এ যুক্ত করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন নাকি তা সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনপ্রাপ্ত হিসেবে প্রচার করছে।
এই যুক্তির প্রেক্ষিতেই কড়া অবস্থান নেয় ডিভিশন বেঞ্চ। শীর্ষ আদালতের তরফে স্পষ্ট করা হয়:
-
পুরোনো রায়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন: গত ২৭ মে বিহারে পরীক্ষামূলক এসআইআর সংক্রান্ত যে রায় সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছিল, তখন এই নতুন বা পরিবর্তিত ফর্ম ৬ অস্তিত্বেই ছিল না। সেটি কার্যকর করা হয়েছে পরবর্তীতে, জুলাই মাসে।
-
আদালত কোনও ছাড়পত্র দেয়নি: যেহেতু শুনানির সময় নতুন ফর্ম ৬ আদালতের বিচার্য বিষয় ছিল না, তাই সেটিকে সুপ্রিম কোর্টের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা সম্পূর্ণ ভুল।
-
ভবিষ্যতে আইনি পরীক্ষার সুযোগ: বেঞ্চ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, সংশোধিত ফর্ম ৬-এর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে নির্দিষ্টভাবে কোনও নতুন পিটিশন দাখিল হলে আদালত তার সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি পূর্ণাঙ্গভাবে খতিয়ে দেখতে প্রস্তুত। সেই সঙ্গে আদালতের মন্তব্যের মনগড়া বা সুবিধাজনক ব্যাখ্যা দেওয়া বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন প্রধান বিচারপতি।
ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য বংশপরিচয়ের প্রমাণ ও অতিরিক্ত শর্ত আরোপ নিয়ে দেশজুড়ে যখন বিরোধী দলগুলি ‘ভোট চুরি’ ও কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজপথে নেমেছে, ঠিক তখনই শীর্ষ আদালতের এই কড়া পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এমন সাফ বার্তা কার্যত নতুন করে প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিল গোটা প্রক্রিয়াকে।