মণ্ডপের লোহার খুঁটিতে হাত দিতেই মর্মান্তিক পরিণতি! নবরাত্রির প্রথম আরতির দিনেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

নবরাত্রি উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে বিষাদে পরিণত হওয়ার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর জেলায়। মহা সমারোহে চলা দুর্গাপুজোর একটি প্যান্ডেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বছরের এক শিশুর নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার সন্ধ্যায় জৌনপুরের কেরাকাত থানা এলাকার কাথারা গ্রামে প্রথম নবরাত্রির আরতির সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল পুজো মণ্ডপে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাথারা গ্রামে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে নবরাত্রি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল এবং সেই উপলক্ষেই একটি বিশাল দুর্গাপুজো প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছিল। মণ্ডপ সাজানোর পাশাপাশি চারপাশ আলোকিত করার জন্য পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক লাইনও টানা হয়েছিল।
কিন্তু অভিযোগ, আলোর জন্য পাতা ওই খোলা বিদ্যুতের তারের কোনো একটি অংশ অসাবধানতাবশত প্যান্ডেলের মূল লোহার খুঁটিগুলোকে ছুঁয়েছিল। সন্ধ্যায় যখন দেবী ভগবতীর সান্ধ্যকালীন আরতি চলছিল এবং মণ্ডপে প্রচুর মানুষের ভিড় জমেছিল, ঠিক সেই সময়ই ওই বৈদ্যুতিক সংস্পর্শে থাকা একটি লোহার খুঁটিতে হাত পড়ে যায় শিশুটির। খুঁটিটি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শক খায় শিশুটি এবং ঘটনাস্থলেই তার যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি
হঠাৎ এই কাণ্ড ঘটে যাওয়ায় মণ্ডপে উপস্থিত লোকজন প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। পরে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই মিলে দ্রুত ওই শিশুকে খুঁটি থেকে আলাদা করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে ছোটেন। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির প্রাণ চলে গেছে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় শোকে পাথর হয়ে গেছে শিশুটির পরিবার। খবর পেয়ে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আয়োজকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। জৌনপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্যামুয়েল পল এন. কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে জেলার সমস্ত দুর্গাপূজা মণ্ডপ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করতে হবে। প্যান্ডেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক সুরক্ষার কড়া তদারকি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জেলাশাসক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যথাযথ অনাপত্তি শংসাপত্র (NOC) ছাড়া জেলার একটিও পুজো প্যান্ডেল চালানো যাবে না। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সমস্ত রকম সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।