“৪০২ জন বিধায়কই ফেল করেছিল, আমি একাই করে দেখিয়েছি!” ভোটের ময়দানে নেমে হুঙ্কার বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোমের

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে হেভিওয়েট নেতা তথা সরধনার প্রাক্তন বিধায়ক সঙ্গীত সোম ফের একবার নিজের ঝাঁঝালো মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই থেমে নেই তিনি। আসন্ন ‘মিশন ২০২৭’-এ নিজের হৃত জমি পুনরুদ্ধার করতে এখন থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন এই বিজেপি নেতা। সম্প্রতি এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে নিজের বিধায়ক আমলের কৃতিত্ব যেমন জোরালোভাবে তুলে ধরেন, তেমনই সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করেন।
“বাকি ৪০২ জন বিধায়ক ব্যর্থ হয়েছিল”
এদিনের জনসভায় অতীতে নিজের বিধায়ক থাকাকালীন স্মৃতির রোমন্থন করে সঙ্গীত সোম বলেন, উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন ৪০৩ জন বিধায়কের মধ্যে তিনিই ছিলেন সেই একমাত্র ব্যক্তি, যাঁর একক প্রচেষ্টায় মেরঠে বিশ্বমানের ‘স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি’ গড়ে উঠেছে। মঞ্চ থেকে কড়া ভাষায় বাকিদের নিশানা করে তিনি দাবি করেন, সে সময় অন্য ৪০২ জন বিধায়ক সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলেও একমাত্র তাঁর জন্যই সরধনায় আজ এই ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ শহরের রূপ নিয়েছে।
সমাজবাদী পার্টি ও অখিলেশ যাদবকে কড়া আক্রমণ
গত পাঁচ বছর ধরে বিধায়ক না থাকলেও এলাকার উন্নয়নের জন্য তিনি যে আজও সমানভাবে সোচ্চার, তা স্পষ্ট করে দেন সঙ্গীত সোম। সমাজবাদী পার্টিকে (সপা) তুলোধনা করে তিনি বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে আমি বিধায়ক নই। এই সময়ের মধ্যে সপা সরকার কী কাজ করেছে, তা আগে বলুক। সপার লোকেরা কেবল জুতো আর চুল নিয়ে রাজনীতি ও নাটক করে। দয়া করে কাজের কথা বলুন।”
অখিলেশ যাদব এবং রাহুল গান্ধীকে ‘একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’ বলে কটাক্ষ করে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, আগামী নির্বাচনে সরধনা বিধানসভা কেন্দ্রে সপা দল চতুর্থ স্থানে গিয়ে ঠেকবে এবং গত ২০ বছরে এই অঞ্চল পিছিয়ে পড়েছে তার জন্য একমাত্র তারাই দায়ী।
‘PDA’ এবং নাম পরিবর্তন নিয়ে তোপ
অখিলেশ যাদবের বহুল আলোচিত ‘PDA’ ফর্মুলা নিয়ে আক্রমণ শাণিত করে বিজেপি নেতা বলেন, সপার এই স্লোগান কেবল নির্দিষ্ট কিছু পরিবার এবং শিল্পপতিদের বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কাকা ও পুঁজিপতিদের রাজ্যসভায় বসানোর বাইরে সপা আর কিচ্ছু করেনি। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি থেকে অখিলেশ চিরতরে ছিটকে গিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি, অতীতে মায়াবতী সরকারের আমলে আমরোহার নাম মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলের নামে রাখা হলেও, পরবর্তী সময়ে সপা সরকার ক্ষমতায় এসে সেই নাম পরিবর্তন করে জঘন্য ‘পাপ’ করেছিল বলে তোপ দাগেন সঙ্গীত সোম। ভোটের দামামা বাজার আগেই সরধনার ময়দানে সঙ্গীত সোমের এই আক্রমণাত্মক ও মারমুখী মেজাজ যে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াল, তা বলাই বাহুল্য।