ছুটি না দেওয়ায় তুমুল মারপিট থানায়! এসএইচও এবং সাব-ইন্সপেক্টরের হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড়

জাতীয় রাজধানীর সংলগ্ন উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি থানায় যা ঘটে গেল, তা দেখলে পুলিশি শৃঙ্খলা ও আইন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গুরুতর প্রশ্ন জাগতে বাধ্য। গাজিয়াবাদের মধুবন বাপুধাম থানার অন্দরে স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) এবং একজন সাব-ইন্সপেক্টরের মধ্যে হাতাহাতি ও মারপিটের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে। থানার ভেতরে উপস্থিত সাধারণ অভিযোগকারীদের সামনেই দুই পুলিশ কর্মকর্তা যেভাবে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন, তাতে পুলিশ মহলে চরম শোরগোল পড়েছে।

ভিডিওতে ঠিক কী দেখা গিয়েছে?
ভাইরাল হওয়া ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মধুবন বাপুধাম থানার স্টেশন হাউস অফিসারের চেম্বারের বাইরের করিডোরে বসে নিজের এলাকার অভিযোগকারীদের কথা শুনছিলেন ওই ইন্সপেক্টর। করিডোরের টেবিলে মামলার বেশ কিছু নথিপত্র ছড়ানো ছিল এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের সমস্যা নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই স্টেশন ইন-চার্জ নিজের চেম্বার থেকে বেরিয়ে এসে সোজা ওই ইন্সপেক্টরের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।

মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় এবং দুজনেই একে অপরের উপর চিত্কার শুরু করেন। থানায় নিজেদের সমস্যা মেটাতে আসা অভিযোগকারীরা হঠাৎ এমন অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। তাঁরা নিজেদের কাজ ফেলে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ভাইরাল ভিডিওটিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ওই ইন্সপেক্টরের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, “বেরিয়ে যান, ভদ্রভাবে কথা বলুন, অভদ্র হবেন না।” জবাবে ইন্সপেক্টরও অত্যন্ত কঠোর স্বরে পাল্টা জবাব দেন।

ছুটি নিয়ে বিবাদের জেরে এই কাণ্ড?
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ইন্সপেক্টর বেশ কিছুদিন ধরে ছুটির আবেদন জানাচ্ছিলেন এবং বারবার এসও-কে সেকথা বললেও তিনি তা মঞ্জুর করছিলেন না। আর এই নিয়েই দু’জনের মধ্যে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ জমছিল, যা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন নক্কারজনক আকার ধারণ করে।

এদিকে উর্দিধারী দায়িত্বশীল পুলিশকর্মীদের মধ্যে এমন প্রকাশ্য হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গেলেও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, পুলিশ কমিশনারের কড়া নির্দেশে ডিসিপি সিটি ব্যক্তিগতভাবে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। খুব শীঘ্রই এই ঘটনায় দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *