উৎসবের উপবাসে মিলবে দ্বিগুণ শক্তি! মা দুর্গার পূজায় ঘরেই বানান সুস্বাদু ‘মাখানা পায়েস’

শারদীয়া নবরাত্রির পবিত্র দিনে দেবী দুর্গার পূজা-অর্চনায় মেতে উঠেছেন অগণিত ভক্ত। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে মা দুর্গার দ্বিতীয় রূপ দেবী ব্রহ্মচারিণীর বিশেষ পূজার নিয়ম রয়েছে। শাস্ত্রমতে, দেবী ব্রহ্মচারিণী সরলতা ও কঠোর তপস্যার প্রতীক। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মা ব্রহ্মচারিণী সাদা রঙের সামগ্রী এবং দুধ দিয়ে তৈরি মিষ্টান্ন অত্যন্ত পছন্দ করেন।

দেবীর আশীর্বাদ ও কৃপা লাভের জন্য নবরাত্রিতে তাঁকে বাড়িতে তৈরি বিশুদ্ধ ‘মাখানা পায়েস’ (পদ্মবীজের ক্ষীর) নিবেদন করতে পারেন। মাখানা ক্ষীর যেমন সুস্বাদু, তেমনই উপবাসের সময় শরীরে প্রচুর শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। অতি সহজেই ঘরে বানিয়ে ফেলা যায় এই রেসিপি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:
মাখানা (ফক্স নাটস): ১ থেকে ২ কাপ

ফুল-ক্রিম দুধ: হাফ লিটার

দেশি ঘি: ১ টেবিল চামচ

চিনি বা মিছরি: ৩-৪ টেবিল চামচ (স্বাদমতো)

সবুজ এলাচ গুঁড়ো: হাফ চা চামচ

কাটা ড্রাই ফ্রুটস (কাজু, কাঠবাদাম, পেস্তা ও কিসমিস): ২ টেবিল চামচ

তৈরি করার সহজ পদ্ধতি:
১. মাখানা ভাজা: প্রথমে একটি ভারী কড়াই বা প্যানে ১ টেবিল চামচ দেশি ঘি গরম করুন। ঘি গরম হলে মাখানা দিয়ে কম আঁচে ৩-৪ মিনিট মুচমুচে হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন।
২. মাখানা ভাঙা: ভাজা মাখানা ঠান্ডা হলে অর্ধেক অংশ মিক্সার বা বেলন-চাকি দিয়ে আধা-ভাঙা (মোটা দানা) করে গুঁড়ো করে নিন এবং বাকি অর্ধেক গোটা রাখুন। এতে ক্ষীরের ঘনত্ব বেশ ঘন ও ক্রিমি (রাবড়ির মতো) হয়।
৩. দুধ ফোটানো: একটি গভীর পাত্রে দুধ ঢেলে তা চুলায় ফোটান। দুধে বলক এলে আঁচ কমিয়ে দিন।
৪. মিশ্রণ রান্না: ফুটন্ত দুধে গোটা ও আধা-ভাঙা দুই ধরনের মাখানাই দিয়ে দিন। কম আঁচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রান্না করুন এবং পাত্রের তলায় যেন লেগে না যায় তাই মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন।
৫. মিষ্টি ও মশলা যোগ: দুধ ঘন হয়ে এলে এতে চিনি বা মিছরি, এলাচ গুঁড়ো এবং মিহি করে কাটা ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে দিন।
৬. শেষ স্পর্শ: চিনি গলে যাওয়া পর্যন্ত আরও ২ মিনিট রান্না করে গ্যাস বন্ধ করে দিন।

একটি সুন্দর পাত্রে ঢেলে ওপর থেকে কিছুটা কাটা বাদাম ছড়িয়ে সাজিয়ে দিন। দেবী ব্রহ্মচারিণীকে গভীর ভক্তিভরে এই মাখানা ক্ষীর নিবেদন করুন এবং পরে পরিবারের সকলের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *