“গোটা বিশ্ব যা খুঁজছে, তা তোমাদের কাছেই আছে!” চেন্নাইয়ে জেন-জিদের বার্তা দিয়ে বিরাট চাল মোদীর

দিল্লির রাজপথে যখন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন ও পুলিশের ধরপাকড় নিয়ে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি, ঠিক তখনই দক্ষিণ ভারত সফরে গিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য এক বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চেন্নাইয়ের এক অনুষ্ঠানে দেশের তরুণ সমাজ অর্থাৎ ‘জেন-জি’ (Gen Z)-দের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানালেন—আজ গোটা বিশ্ব যে সমস্ত কঠিন সমস্যার সমাধানের খোঁজে রয়েছে, সেই প্রতিটি সমাধানের চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে ভারতের তরুণ প্রজন্মের হাতেই।
তামিল সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা এবং বিশিষ্ট তামিল কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতীর কবিতা উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজকে সম্পূর্ণ নির্ভীক হয়ে বড় স্বপ্ন দেখার ও আউট-অফ-দ্য-বক্স ভাবার আহ্বান জানান।
“এটাই আপনাদের সময়, এটাই সুযোগ”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে আবেগঘন সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
“আজ গোটা বিশ্ব সমাধানের পথ খুঁজছে। আর সেই দিশা দেখানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে আপনাদের মধ্যেই। আমি চাই, দেশের প্রত্যেক তরুণ-তরুণী নিজেদের ভবিষ্যৎকে একটি বৃহত্তর বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে দেখুন। কারণ, এটাই আপনাদের সময়। এটাই আপনাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।”
নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীর প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, “আমি কাশীর প্রতিনিধি।” এরপরই তামিলের প্রবাদপ্রতিম কবি ভারতীয়ারের বাণী তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, “ভারতীয়ারের প্রতিটি শব্দ আমাদের নির্ভয়ে বাঁচতে অনুপ্রাণিত করে। আমি এখানে উপস্থিত প্রত্যেককে বলব, নিজেদের নির্ভীক হওয়ার সুযোগ দিন। বড় স্বপ্ন দেখুন, গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে চিন্তা করুন এবং এগিয়ে চলুন।”
ভারতে অফুরন্ত সম্ভাবনার হাতছানি
দেশ জুড়ে উদ্ভাবন ও স্টার্ট-আপ সংস্কৃতির প্রসারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান ভারতে সম্ভাবনার কোনও অভাব নেই। তাঁর কথায়, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে নতুন চিন্তার জগতে তরুণরাই ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশ গঠনে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মের ভূমিকাই প্রধান চালিকাশক্তি হতে চলেছে।
উত্তাল রাজনৈতিক আবহে মোদীর এই বার্তার তাৎপর্য
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চেন্নাই থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা কেবল অনুপ্রেরণামূলক নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্যও। সম্প্রতি দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে পরিচালিত ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR)-এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলি। দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্রনেতাদের ব্যাপক ধরপাকড় এবং বিরোধীদের একের পর এক আক্রমণের মাঝেই চেন্নাইয়ে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মোদীর এই সংযোগ স্থাপন ও ‘জেন-জি’দের গুরুত্ব স্বীকার করার কৌশল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।