পুজোয় মহিলাদের ওপর নজর দিলেই সোজা শ্রীঘরে! মণ্ডপের ভিড়ে ছদ্মবেশে কারা এই ‘দুর্গা বাহিনী’?

শারদোৎসবের আলোয় যখন সাজছে গোটা বাংলা, তখন ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নারী হেনস্থা ও ইভটিজিং রুখতে আঁটসাঁট রণকৌশল সাজাল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। উৎসবের দিনগুলিতে মণ্ডপে মণ্ডপে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হচ্ছে এক বিশেষ মহিলা পুলিশ দল—যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘দুর্গা বাহিনী’।

পুজোর ভিড়ে কোনো দুষ্কৃতী বা অসাধু ব্যক্তি যাতে মহিলাদের অস্বস্তিতে ফেলতে না পারে, তার জন্য মণ্ডপ চত্বরে চব্বিশ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাবে এই চৌকস দল।

কী এই ‘দুর্গা বাহিনী’?

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে গঠিত এই বিশেষ স্কোয়াডটি মূলত প্রশিক্ষিত মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে তৈরি। মার্শাল আর্ট, দ্রুত প্রতিক্রিয়া (কুইক রেসপন্স) এবং ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে এদের বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। মেদিনীপুর শহর, খড়্গপুর, ঘাটাল-সহ জেলার সমস্ত জনবহুল পুজো প্রাঙ্গণ ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলিতে মোতায়েন থাকবে এই দল।

কীভাবে কাজ করবে এই বাহিনী?

১. ছদ্মবেশে নজরদারি: কেবল উর্দি পরেই নয়, ‘দুর্গা বাহিনী’র একাধিক সদস্য সাধারণ দর্শনার্থীর বেশে মণ্ডপের লাইনে ও ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকবেন। ফলে কাউকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করলেই হাতেনাতে পাকড়াও করা সম্ভব হবে।

২. দ্বিচক্রযানে বিশেষ টহল: শহরের অলিগলি এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে স্কুটি ও বাইক নিয়ে চক্কর কাটবে ‘দুর্গা বাহিনী’র কুইক রেসপন্স টিম।

৩. জরুরি সহায়তা ও কাউন্সেলিং: ভিড়ের মধ্যে কোনও মহিলা, কিশোরী বা শিশু দলছুট হয়ে পড়লে কিংবা বিপদে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে এই টিম।

কড়া হুঁশিয়ারি পুলিশের

জেলা পুলিশ প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, পুজোর আনন্দে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বা মহিলাদের সম্মানহানির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। মণ্ডপ প্রাঙ্গণে সন্দেহজনক আচরণ দেখলেই মুহূর্তের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেবে এই বাহিনী। উৎসবকে আনন্দময় ও সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে এমন অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন জেলার সাধারণ মানুষ।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *