ভয়াবহ হড়পা বানে ভেসে গেল একাধিক বাড়ি-সেতু! হঠাৎ কেন রুদ্ররূপ নিল নেপালের বুধি গণ্ডকী?

ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে নেপাল। পাহাড়ি পাহাড়ে ভূমিধসের জেরে হঠাৎ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বুধি গণ্ডকী নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ। আর তার ফলেই রবিবার নদীটির নিম্ন অববাহিকায় প্রবল বেগে নেমে আসে ভয়াবহ হড়পা বান। মুহূর্তে ভেসে যায় একাধিক বাড়িঘর, দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং একাধিক স্থানীয় পরিকাঠামো। ভয়াবহ এই প্লাবনের ফলে নদীকূলের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত নদীর পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জরুরি নির্দেশ জারি করেছে। তবে স্বস্তির বিষয়, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

বিপর্যয়ের মূল কারণ কী?সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রের খবর, রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত গোর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে এক ভয়াবহ ভূমিধস নেমে আসে। পাহাড় ধসে বিশাল পরিমাণ পাথর ও মাটি এসে নদীর গতিপথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে দেয়। দীর্ঘ সময় জল আটকে থাকার পর বাঁধের মতো সেই বাধা একলহমায় ভেঙে পড়লে নদীর নিম্নভাগে হঠাৎ করে বিশাল জলস্ফীতি ঘটে, যার ফলে হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। ক্ষয়ক্ষতি ও প্রশাসনিক তৎপরতাপাহাড়ি নদীর জল প্রবল শক্তিতে নেমে আসার কারণে নিম্ন অববাহিকার একাধিক লোকালয় জলের তোড়ে তছনছ হয়ে যায়। জলের তোড়ে বাড়িঘর ও সেতু ছাড়াও একটি স্থানীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বড়সড় ক্ষতি হয়েছে।

গোর্খা জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, নদীর নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে তড়িঘড়ি নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। মাইকিং করে নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে। প্রশাসনের কর্তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন।

উল্লেখ্য, টানা দুর্যোগ ও সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালে ইতোমধ্যে প্রায় ১,৫০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সেই ক্ষত শুকোনোর আগেই বুধি গণ্ডকী নদীর এই আকস্মিক দুর্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *