নির্বাচনে হেরে গেলেই ‘ভোট চুরি’র ধুয়ো! পরিসংখ্যান দিয়ে রাহুল গান্ধীকে কড়া আয়না দেখালেন অমিত শাহ

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং বিরোধী দলগুলির লাগাতার ‘ভোট চুরি’ তত্ত্ব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির বিরুদ্ধে এবার পরিসংখ্যান দিয়ে জোরদার পাল্টা আক্রমণ শানাল শাসক শিবির। বিজেপি সাংসদ ও দলের জাতীয় মুখপাত্র ডঃ সম্বিত পাত্র একটি ভিডিও প্রকাশ করে রাহুল গান্ধীকে তীব্র নিশানা করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সেই ভিডিওতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকার ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাহুল গান্ধীকে একহাত নেওয়া হয়েছে।

অমিত শাহের নিশানায় কংগ্রেসের ‘পরাজয়ের রাজনীতি’:
ভাইডিওটিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বলতে শোনা যায় যে, কংগ্রেস দল দীর্ঘদিন ধরে দেশের বহু রাজ্যে নির্বাচনে জিততে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এখন যখন তারা বুঝতে পেরেছে যে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে জয়লাভ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব, তখনই তারা খোদ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক সংস্থাকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টায় নেমেছে।

রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, নিজের দলের লাগাতার পরাজয় এবং ব্যর্থতা ঢাকতেই ইভিএম, ভোট চুরি, ভোটার তালিকা কিংবা এসআইআর (SIR)-এর মতো বিষয়গুলি নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তুলছেন কংগ্রেস নেতা।

যে রাজ্যগুলির উদাহরণ টানলেন শাহ:
বিজেপি ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকলেও এমন বহু রাজ্য রয়েছে যেখানে কংগ্রেস বছরের পর বছর ধরে ক্ষমতার মুখ দেখেনি বা তাদের কোনো মুখ্যমন্ত্রীই নেই। অমিত শাহ সেই সমস্ত রাজ্যগুলির একটি দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরেছেন:

তামিলনাড়ুতে ১৯৬৭ সাল থেকে কোনো কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী নেই।

পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪৯ বছর ধরে নেই কোনো কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী।

সিকিমে গত ৪২ বছর ধরে নেই।

উত্তর প্রদেশে ৩৭ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে তারা।

বিহারে ৩৬ বছর ধরে কংগ্রেসের কোনো মুখ্যমন্ত্রী নেই।

গুজরাটে ৩০ বছর এবং ওড়িশায় ২৬ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে দলটি।

নাগাল্যান্ডে ২৩ বছর এবং মহারাষ্ট্রে গত ১২ বছর ধরে দলের কোনো মুখ্যমন্ত্রী নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন, এই রাজ্যগুলিতে যখন কংগ্রেস বছরের পর বছর ধরে জিরো পারফরম্যান্স দিয়েছে, তখন কি সেই সময়েও ভোট চুরি হয়েছিল? কংগ্রেসকে আত্মবিশ্লেষণ করার পরামর্শ দিয়ে শাহ স্পষ্ট জানান, ভিত্তিহীন অভিযোগ না করে নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা মেনে নেওয়া উচিত রাহুল গান্ধীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *