“বিমান থেকে নামার অপেক্ষাটুকুও করল না!” পুলিশি ধরপাকড় ঘিরে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি

ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এবং ‘আইসা’ (AISA)-র পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। আন্দোলন প্রতিহত করতে রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী সহ প্রায় চারশো জন প্রতিবাদকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

বিমানের ভেতরেই নাটকীয় আটক:
শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের পর কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেঙে সরাসরি কেবিনের ভেতরে ঢুকে পড়েন পুলিশকর্মীরা। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সমাজকর্মী সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমান থেকেই আটক করা হয়।

পুলিশের এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, “আমরা বিমান থেকে বের হওয়া পর্যন্ত তো আপনারা অপেক্ষা করতে পারতেন! সরাসরি ফ্লাইটে ঢুকে এভাবে আটক করছেন কেন? আমাদের গ্রেফতার করতে হলে করুন, ইউএপিএ (UAPA) বা এনএসএ (NSA) দিন—আমরা কাউকে ভয় পাই না! দেশের গণতন্ত্র ও অবাধ নির্বাচনের সুরক্ষায় আমাদের সংগ্রাম জারি থাকবে।” অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে এটি কোনো গ্রেফতারি নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

ধ্রুব রাঠী ও অন্যান্যদের আটক:
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দিতে আসার আগেই গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর বাসভবন থেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং সিজেপির লিগ্যাল সেলের প্রধান রত্না সিংকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় পুলিশ। রাতভর চলা এই অভিযানে পুরো রাজধানী থেকে অন্তত ৪০০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

নিরাপত্তার চাদরে মোড়া রাজধানী:
আন্দোলন থামাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন কড়াকড়ি নেওয়া হয়েছে। দিল্লির প্রায় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে, বেশ কিছু মেল-এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং ২০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হয়েছে।

সিজেপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘স্বৈরাচারী মনোভাবের চরম বহিঃপ্রকাশ’ বলে নিন্দা জানানো হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নেতৃত্বহীন করতেই সরকার ও দিল্লি পুলিশ এই দমনপীড়ন চালাচ্ছে। অবিলম্বে সমস্ত আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *