কোনো কোচিং নয়, চ্যাটজিপিটির সাহায্যেই বাজিমাত! হরিয়ানা সিভিল সার্ভিসে পঞ্চম হয়ে তাক লাগাল ২৩ বছরের তরুণী

সঙ্গী বলতে কেবল মধ্যবিত্ত সংসারের কঠিন লড়াই। পাশে ছিলেন না কোনো গৃহশিক্ষক, মেলেনি কোনো নামী কোচিং সেন্টারের গাইডেন্সও। কিন্তু আধুনিক এআই (AI) টুল আর নিজের অদম্য জেদের ওপর ভরসা রেখেই প্রশাসনিক চাকরির পরীক্ষায় এক অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে নিলেন ২৩ বছরের তরুণী ছাভি সারদানা। একের পর এক বাধা টপকে হরিয়ানা সিভিল সার্ভিসেস (HCS) পরীক্ষায় একেবারে পঞ্চম স্থান অধিকার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আইন থেকে সিভিল সার্ভিসের স্বপ্ন:
হিসারের ডোগরান মহল্লার বাসিন্দা ছাভির পরিবারে এর আগে কেউ সিভিল সার্ভিসের মতো উচ্চপদে চাকরি করেননি। তাঁর বাবা চিরাগ সারদানা একটি ছোট প্রিন্টিং প্রেস চালান এবং মা সুমন সারদানা গৃহবধূ। পাটিয়ালা থেকে আইনে স্নাতক হওয়ার পর থেকেই ছাভির মনে দানা বাঁধছিল সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন। তবে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে তিনি কোনো কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি না হয়ে সম্পূর্ণ নিজের ওপর ভরসা রেখেই প্রস্তুতি শুরু করেন।
সাফল্যের পেছনের মূল মন্ত্র:
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাভির এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে রয়েছে মূলত তিনটি মন্ত্র—
টাইম ম্যানেজমেন্ট ও রুটিন: প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে পড়াশোনা শুরু করতেন তিনি। দীর্ঘ সময় পড়ার চেয়ে কোন বিষয় কতটা গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে, সেদিকেই ছিল তাঁর কড়া নজর। পরীক্ষার প্রথম ধাপ এপ্রিল ও জুনে হওয়ার পর পঞ্চকুলায় ৩ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা সাক্ষাৎকারে সেরার তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি। মোট ৬৭৫ নম্বরের মধ্যে ছাভি পেয়েছেন ৩৮৫.৮০।
এআই-এর সাহায্য: পড়াশোনার সময় কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে তিনি চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-র সাহায্য নিয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তিকে নিজের সুবিধার্থে ব্যবহার করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরত্ব: ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো বিনোদনমূলক মাধ্যম থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রেখেছিলেন এই মেধাবী ছাত্রী।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৬০ হাজার পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হরিয়ানা সিভিল সার্ভিসে বাজিমাত করার পাশাপাশি ছাভি পিএসসি (PCS) এবং ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষাতেও অংশ নিয়েছেন, যার ফল এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের গণ্ডি ভেঙে ছাভির এই অনুপ্রেরণামূলক সাফল্য এখন অনেকের কাছেই বড় উদাহরণ।