দিল্লিতে ধুন্ধুমার! ‘হাঁটতে হাঁটতে হারাধন হয়েছেন বিরোধীরা’, ককরোচ পার্টির আন্দোলন নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

এসআইআর (SIR) ইস্যুকে কেন্দ্র করে অভিজিৎ দিপকেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভের জেরে আজ কার্যত অবরুদ্ধ রাজধানী দিল্লি। মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা থেকে শুরু করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। অন্যদিকে, ঠিক একদিন আগেই রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট বিরোধী নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে ভোট চুরির অভিযোগ জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। আর মহালয়ার সকালেই দিল্লির এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক নাটক নিয়ে কড়া আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

সিজেপির বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা নিয়ে দিলীপের মন্তব্য:
দিল্লির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘যেভাবে চারদিকে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মব জনতা পার্টি কোনো ছাড়বে না বলছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে দেশের যুবসমাজ আজ হতাশার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। তারা যে কোনো কিছু ঘটাতে পারে, সেই আশঙ্কায় সরকার সতর্ক হয়েছে। আন্দোলন বা গণতান্ত্রিক অধিকার সকলেরই আছে, কিন্তু যেভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। সরকার চেয়েছে সুস্থভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে।’’

রাষ্ট্রপতি ভবনে বিরোধী সাক্ষাৎ ও রাহুল গান্ধীর দাবি:
এর আগে গতকালই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এক প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে ভোট চুরির বিস্ফোরক অভিযোগ তোলে। বৈঠক শেষে রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন, রাষ্ট্রপতির সামনে তাঁরা যে অভিযোগ পেশ করেছেন, তা রাষ্ট্রপতি খণ্ডন করেননি বা কোনো প্রশ্ন তোলেননি; বরং তাঁদের কাছে প্রমাণ চেয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘দেখুন, হাঁটতে হাঁটতে ওনারা ‘হারাধন’ হয়ে গেছেন! ওনারা এতদিন যেভাবে জিতে আসছিলেন, এখন হেরে গিয়ে সবকিছু বাতিল করে দিতে চাইছেন। এভাবে দেশ চলতে পারে না। অন্য দেশের মতো উৎপাত করে সরকার পাল্টে দেওয়ার যে চেষ্টা ওনারা করছেন, তাতে ভারতবাসীকে না জেনেই ভুল করছেন। এ দেশের মানুষ ওনাদেরই উল্টে দেবেন। ভারতের পরম্পরা, সংস্কৃতি এবং গণতন্ত্র আমাদের রক্তে রয়েছে। এখানকার সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না।’’

মহালয়ার দিনেও দিল্লি ও দেশের রাজনীতিতে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত এই সংঘাত যে চরম রূপ নিয়েছে, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক তরজাকে উসকে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *