রাজধানীতে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি! বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গিলে খেয়ে বাধ্য হয়ে কী বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর রাজপথ এখন উত্তপ্ত। নজিরবিহীন নিরাপত্তা কড়াকড়ি এবং যান চলাচলে বিধিনিষেধের ফলে কার্যত স্তব্ধ দিল্লি। বিরোধীদের একাংশ পুরো পরিস্থিতিকে ‘সরকারের ডাকা বনধ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে রাজধানীর রাজপথ অবরুদ্ধ হওয়ার মধ্যেই বিতর্ক সামলাতে পিছু হঠল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছেমতো নাম বাদ দেওয়া ঠেকাতে এবার ‘ফর্ম ৭’ জমা দেওয়ার সংখ্যায় কঠোর ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হলো।
ফর্ম ৭-এ কী পরিবর্তন আনল কমিশন?
এতদিন পর্যন্ত কোনো বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা থেকে অন্য কারও নাম বাদ দেওয়ার আবেদন বা আপত্তি জানিয়ে ইচ্ছামতো ‘ফর্ম ৭’ (Form 7) জমা দেওয়া যেত। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের আগে সাধারণ বিরোধীদের নাম বাদ দিতে শাসক দল গণহারে এই ফর্ম জমা দিয়েছিল।
কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:
বিশেষ সংশোধনী (SIR) চলাকালীন: একজন ব্যক্তি পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে সর্বমোট ১০টির বেশি ফর্ম ৭ বা আপত্তি জমা দিতে পারবেন না।
স্বাভাবিক সময়ে: ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজ চলাকালে একজন ব্যক্তি প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫টি ফর্ম ৭ জমা করতে পারবেন।
আইনি কড়াকড়ি: জমা পড়া অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাপের মুখে আগের সিদ্ধান্ত বদল?
সম্প্রতি ৬ নম্বর ফর্ম নিয়েও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। বাদ যাওয়া প্রায় ১৩ কোটি ভোটারদের বুথে না পাঠিয়ে বিএলও (BLO)-দের বাড়ি গিয়ে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যাকে বিরোধীরা ‘ক্ষতে মলম দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা’ এবং প্রাক্তন সিইসি এস ওয়াই কুরেশি ‘নতুন ভোটার হিসেব দেখানোর ফন্দি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
কমিশনের সাম্প্রতিক পদে পদে পিছু হঠাকে ওয়াকিবহাল মহল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ওপর তৈরি হওয়া বিপুল রাজনৈতিক ও আইনি চাপের ফসল হিসেবেই দেখছে।
তৃণমূল ও কংগ্রেসের তোপ:
পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির যৌথ দুর্নীতির কারণেই বিগত নির্বাচনে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছিল। অন্যদিকে, কর্ণাটকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার সিইসি দপ্তরের সামনে ধর্নায় বসে অভিযোগ তোলেন, কংগ্রেস সমর্থকদের নাম কাটতে বিজেপি কর্মীদের আগে থেকে ছাপানো ফর্ম ৭ বিতরণ করা হয়েছিল।
যদিও আগে কোনো অভিযোগই পাত্তা দেয়নি কমিশন, অবশেষে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সিইও-দের কাছে পাঠানো সর্বশেষ নির্দেশিকায় কমিশন স্বীকার করে নিয়েছে যে ভিত্তিহীন কারণে গণহারে ফর্ম ৭ জমা পড়ায় সংশোধনী কাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জোরদার হতেই নিজেদের আগের অবস্থান শিথিল করতে বাধ্য হলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন।