১৫ হাজার পুলিশ ও ২৩ হাজার আধাসেনা! কক্রোচ জনতা পার্টির মহা-বিক্ষোভ রুখতে ছারখার গোটা দিল্লি, বন্ধ মদের দোকান

বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার যন্তর মন্তরে কক্রোচ জনতা পার্টির (CJP) বিশাল প্রতিবাদের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী দিল্লি। পুলিশের অনুমতি না মিললেও নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে প্রতিবাদী শিবির।
ব্যাপক নিরাপত্তা ও আধা সেনা মোতায়েন:
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিককালের যেকোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদের তুলনায় রাজধানীতে এটি অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ঘটনা। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে দিল্লি পুলিশকে সহায়তার জন্য ২২৪টি কোম্পানি অর্থাৎ প্রায় ২৩,০০০ কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এই বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি, পিটিআই সূত্রে খবর, মাঠে নামছেন খোদ অন্তত ১৫,০০০ দিল্লি পুলিশকর্মীও। ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এই কঠোর বন্দোবস্ত বলবৎ রাখা হয়েছে।
কড়া নজরদারি ও ধরপাকড়:
ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি: পুলিশের নজরদারি এড়াতে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। গত জুলাই মাসে এনইইটি-ইউজি প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ড নিয়ে সিজেপি-র বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং অপরাধমূলক পূর্বপার্থক্য রয়েছে এমন প্রায় ২,৮০০ ব্যক্তিকে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। সমস্ত থানার স্টেশন হাউস অফিসারদের (SHO) তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাস ও পরিবহন নজরদারি: আন্দোলনকারীদের যাতায়াত রুখতে বাস বুকিং এবং ট্রাভেল অপারেটরদের ওপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ। এমনকি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ও পেয়িং গেস্ট (PG) মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তে তল্লাশি ও আটক কেন্দ্র: উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থান সংলগ্ন দিল্লির সীমানাগুলিতে চলছে কঠোর চেকিং। বিক্ষোভকারীরা সরে না গেলে তাদের সাময়িকভাবে আটকে রাখার জন্য স্টেডিয়ামগুলিতে অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লির সরকার ৯ ও ১০ অক্টোবর মদ বিক্রির দোকানগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
বডি ক্যাম ও রাজনৈতিক তরজা:
গত ২ অক্টোবর যন্তর মন্তরে এক বিক্ষোভের সময় তিন জন মহিলা সাংবাদিকের ওপর দুর্ব্যবহার ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার পর এবার বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। প্রতিবাদী ও পুলিশ কর্মীদের মিথস্ক্রিয়া রেকর্ড করতে প্রায় ১৫০টি বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। অবশ্য পুলিশ ওই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে, অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে পিছু হঠছে না সিজেপি। সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস একে সাংবিধানিকভাবে প্রাপ্ত মৌলিক অধিকার বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, আপ (AAP) দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ এক্স হ্যান্ডেলে অভিযোগ করেছেন যে, আম আদমি পার্টি এবং অ্যাসপ-এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ছাত্র ও স্বেচ্ছাসবককে আটক করে অজ্ঞাতবাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই হাই-ভোল্টেজ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে জাতীয় রাজধানীতে।