গাড়ির বাজারে বিরাট ধামাকা! গাড়ি কেনার তিন বছর পর ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা ফেরত দেবে কিয়া

উৎসবের মরসুম শুরু হতেই ক্রেতাদের জন্য এক আকর্ষণীয় ও বড়সড় অফার নিয়ে এল স্বনামধন্য গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা কিয়া ইন্ডিয়া (Kia India)। গাড়ি কেনার পর গ্রাহকদের মনে ভবিষ্যৎ মূল্য বা রিসেল ভ্যালু নিয়ে যে সংশয় থাকে, তা দূর করতেই সংস্থাটি নিয়ে এসেছে একটি বিশেষ ‘অ্যাসিওরড বাইব্যাক’ (Assured Buyback) অফার। এই স্কিমের আওতায় পেট্রোল ও ডিজেল চালিত (ICE) গাড়ির ক্ষেত্রে তিন বছর পর কোম্পানির নির্ধারিত পুনঃবিক্রয় মূল্যের বা রিসেল ভ্যালুর ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হবে। নতুন গাড়ি কেনা কিংবা পুরনো গাড়ি বদলে নতুন মডেল বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

কোন কোন মডেলে মিলবে এই সুবিধা?
কিয়া ইন্ডিয়ার এই নতুন বাইব্যাক অফারে সংস্থার একাধিক জনপ্রিয় ও প্রিমিয়াম মডেলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিয়া সনেট (Kia Sonet), সাইরোস (Syros), নিউ সেলটস (New Seltos), ক্যারেন্স (Carens), ক্যারেন্স ক্লাভিস (Carens Clavis) এবং বিলাসবহুল সোরেন্টো (Sorento)-র মতো গাড়িগুলি। গ্রাহকরা যেকোনো অনুমোদিত ডিলারশিপের মাধ্যমেই এই প্ল্যানে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

৩, ৪ এবং ৫ বছরের সহজ বিকল্প:
গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পেট্রোল ও ডিজেল গাড়ির ক্ষেত্রে ৩, ৪ বা ৫ বছরের প্ল্যান বেছে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, যাঁরা ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি কিনবেন, তাঁদের জন্য ৩ বা ৪ বছরের প্ল্যানের বিকল্প থাকছে। এছাড়া ড্রাইভিংয়ের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর ১০,০০০, ১৫,০০০ বা ২০,০০০ কিলোমিটারের স্লাব বেছে নেওয়া যাবে। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই প্ল্যানটি সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের জন্য উপলব্ধ থাকবে। গাড়িটির নিশ্চিত পুনঃবিক্রয় মূল্য সম্পূর্ণভাবে গ্রাহকের বেছে নেওয়া প্ল্যান এবং টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করবে।

গ্রাহকদের জন্য এই অফার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই নতুন অফার প্রসঙ্গে কিয়া ইন্ডিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) অতুল সুদ জানিয়েছেন যে, এই স্কিমের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের তাদের গাড়ির ভবিষ্যৎ মূল্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও ভরসা দেওয়া। এর ফলে গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা আরও সহজ হবে। বাজারে দেখা যাচ্ছে যে, বর্তমান ক্রেতারা কেবল গাড়ির পারফরম্যান্স বা প্রযুক্তি দেখেই থামছেন না, বরং রিসেল ভ্যালু বা পুনঃবিক্রয় মূল্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিভিন্ন মডেল এবং পাওয়ারট্রেনে এই ফিচারটি যুক্ত করার ফলে গাড়ি কেনাবেচার অভিজ্ঞতা আরও অনেক বেশি নমনীয় ও লাভজনক হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *