হিমাচলে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা! নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে উল্টে গেল যাত্রীবাহী এইচআরটিসি বাস, মৃত ১

শুক্রবার সকালে হিমাচল প্রদেশের শিমলা জেলার রামপুর মহকুমায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। হিমাচল রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (HRTC)-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকাই একটি গভীর খাদে পড়ে যায়। সানেই থেকে রামপুরগামী ওই বাসটিতে সেই সময় প্রায় কুড়ি জন যাত্রী সওয়ার ছিলেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত অবস্থায় অন্য দুই যাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কীভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এইচআরটিসি-র বাসটি সানেই থেকে রামপুরের দিকে আসছিল। যাত্রাপথেই হঠাৎ করে চালক গাড়ির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, যার ফলে বাসটি সোজা রাস্তা থেকে ছিটকে একটি গভীর খাদে গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের গ্রামবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন।
নিহত যুবকের পরিচয় ও উদ্ধারকার্য:
এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো যুবকের নাম বংশ নেগি (১৯)। তিনি রামপুরের করালি গ্রামের বাসিন্দা সুরঞ্জনের পুত্র। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, খাদে পড়ে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার কারণে বংশ নেগি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তাঁর পরিবার ও গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগেই তৎপর হয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তাঁরা আহত যাত্রীদের গভীর খাদ থেকে ওপরে তুলে নিজেদের ব্যক্তিগত যানবাহনে করে দ্রুত খানেরির মহাত্মা গান্ধী মেডিকেল সার্ভিসেস কমপ্লেক্সে (MGMSC) নিয়ে যান। হাসপাতাল প্রশাসনও খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দুজন যাত্রী গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে এবং একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করে পুরো দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।