২০ হাজারের ঘুষ নিতে গিয়ে মহা বিপদ! ফাঁদে পড়ে ফাঁস হল সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের ১.৩২ কোটির ‘কালো সাম্রাজ্য’!

সিকিউরিটি মানি ফেরত দেওয়ার নামে ঘুষ চাওয়াটাই কাল হল! ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন পশ্চিমবঙ্গ গ্রামোন্নয়ন পর্ষদের (WBSRDA) এক সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। আর তাঁকে গ্রেফতার করার পরই তাঁর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য পেলেন রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার (ACB) আধিকারিকরা। মাত্র ২০ হাজার টাকার কাটমানি খেতে গিয়ে ফাঁস হয়ে গেল এই সরকারি কর্তার প্রায় ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার বিপুল গুপ্ত সম্পত্তি ও বিনিয়োগের খতিয়ান!
কীভাবে পাতা হয়েছিল ফাঁদ?
ঘটনার সূত্রপাত পঞ্চায়েত প্রকল্পের একটি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে ওই এলাকায় প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সরকারি রাস্তা তৈরির কাজের ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ পেয়েছিলেন এক স্থানীয় ঠিকাদার। ২০২৫ সালের শেষভাগে রাস্তা তৈরির কাজ সফলভাবে শেষ হয়। এরপর টেন্ডারের নিয়ম অনুযায়ী, জমা রাখা নিজস্ব আমানত বা ‘আর্নেস্ট মানি’ ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন জানান ওই ঠিকাদার।
কিন্তু অভিযোগ, জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার নাম করে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন WBSRDA-র হুগলি বিভাগের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। টাকা আটকে রেখে তিনি সরাসরি ২০,০০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন। কাটমানি দিতে নারাজ ঠিকাদার সোজা পৌঁছে যান দুর্নীতি দমন শাখার দপ্তরে এবং লিখিত অভিযোগ জানান।
অভিযোগ পেতেই ফাঁদ পাতেন ACB-র স্পেশাল টিমের আধিকারিকরা। গত মঙ্গলবার চুঁচুড়ায় হুগলি জেলা পরিষদ অফিসে টাকা লেনদেনের সময় ঘুষের ২০ হাজার টাকাসহ ওই ইঞ্জিনিয়ারকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়।
তল্লাশিতে মিলল সম্পত্তির পাহাড়
গ্রেফতারির পর অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ারের চুঁচুড়ার আবাসনে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় এসিবি। গত ৬ ও ৭ অক্টোবর টানা অভিযানে তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হয় একের পর এক চাঞ্চল্যকর নথি।
-
৭৩টি ভুয়ো/বেনামী বিনিয়োগের ফাইল: ধৃত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট, মিউচুয়াল ফান্ড এবং জমি-ফ্ল্যাট সংক্রান্ত ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
-
১.৩২ কোটির সম্পত্তি: নথিপত্র খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে মোট ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার অবৈধ সম্পদ ও বিনিয়োগ শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা।
-
গত ৫ বছরের কেরামতি: এসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিপুল সম্পদের সিংহভাগই অর্জিত হয়েছে গত ৫ বছরে!
বর্তমানে ওই ইঞ্জিনিয়ারের এত বিপুল পরিমাণ আয়ের উৎস কী এবং এই ঘুষ কাণ্ডে জেলা পরিষদের আরও কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী যুক্ত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় জেরা করছে দুর্নীতি দমন শাখা।